রসালো, নরম গুলাব জামুন খেতে কে না ভালবাসেন! কিন্তু জানেন কি, ভারতে এমন একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে এই মিষ্টির জন্যই পরিচিতি পেয়েছে গোটা জনবসতি। উত্তরপ্রদেশের মৈগলগঞ্জকে বলা হয় ‘গুলাব জামুন গ্রাম’। এখানকার রাস্তার ধারে একের পর এক মিষ্টির দোকান, আর প্রায় সব দোকানের প্রধান আকর্ষণ এই জনপ্রিয় মিষ্টি।
2
10
উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলায় অবস্থিত মৈগলগঞ্জ। দিল্লি থেকে লখনউ যাওয়ার সড়কপথে পড়ে এই জনপদ। দীর্ঘ পথের যাত্রায় অনেকেই এখানে কিছুক্ষণের জন্য থামেন। কেউ দোকানে বসে গরম গরম গুলাব জামুন খান, আবার কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যান মিষ্টির বাক্স।
3
10
এই পরিচিতির পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যবসার ইতিহাস। জানা যায়, ১৯৪১ সালে এখানে ‘ধনপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ নামে একটি দোকান চালু হয়। সেই সময় এলাকাটি ছিল তুলনায় অনুন্নত। দোকানের গুলাব জামুন ক্রমে পথচলতি মানুষের মন জয় করে। ক্রেতা বাড়তে থাকায় আশপাশেও গড়ে ওঠে আরও অনেক মিষ্টির দোকান।
4
10
প্রথম দোকানের সাফল্য দেখে অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও এই মিষ্টি বিক্রি শুরু করেন। রাস্তার ধারে একের পর এক দোকান তৈরি হতে থাকে। এভাবেই মৈগলগঞ্জের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায় গুলাব জামুন। ১৯৭০-এর দশকের মধ্যে জায়গাটি এই মিষ্টির জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিল।
5
10
মৈগলগঞ্জের একটি নির্দিষ্ট রাস্তার অংশে প্রায় ২৫টি ছোট দোকানে সারা বছর গুলাব জামুন বিক্রি হয় বলে ‘অ্যাটলাস অবস্কুরা’-র প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অন্য কিছু প্রতিবেদনে দোকান ও অস্থায়ী বিক্রির জায়গার সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছে।
6
10
এই মিষ্টি তৈরির প্রধান উপকরণ খোয়াক্ষীর। তার সঙ্গে মেশানো হয় ময়দা এবং সামান্য খাবার সোডা। মিশ্রণটি মেখে ছোট ছোট গোল আকার দেওয়া হয়। এরপর সেগুলি ভেজে চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয়। উপকরণের অনুপাত এবং তৈরির পদ্ধতির উপর নির্ভর করে মিষ্টির নরম ভাব ও স্বাদ।
7
10
গুলাব জামুন বাইরে থেকে সুন্দর বাদামি হলেও ভিতরে নরম থাকা জরুরি। সেই কারণে প্রথমে কম আঁচে মিষ্টিগুলি ভাজা হয়। পরে আঁচ বাড়িয়ে আনা হয় সোনালি-বাদামি রং। খুব বেশি আঁচে ভাজলে বাইরে রং হয়ে গেলেও ভিতরটা ঠিকমতো সেদ্ধ নাও হতে পারে।
8
10
গুলাব জামুনের স্বাদ অনেকটাই নির্ভর করে চিনির রসের উপর। রস খুব পাতলা হলে মিষ্টির মধ্যে ঠিকমতো মিশতে নাও পারে। আবার অতিরিক্ত ঘন হলে স্বাদ ও গঠনে প্রভাব পড়তে পারে। মৈগলগঞ্জের মিষ্টি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের মতে, রসের সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখা এই মিষ্টি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
9
10
মৈগলগঞ্জের দোকানগুলিতে গুলাব জামুন প্রায়ই ছোট মাটির পাত্রে পরিবেশন করা হয়। সদ্য তৈরি গরম মিষ্টি খাওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্রেতা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও কিনে নেন। দিল্লি-লখনউ হাইওয়েতে যাতায়াত করা মানুষের কাছে এই বিরতি এখন মিষ্টি খাওয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে।
10
10
মৈগলগঞ্জের গল্প শুধু গুলাব জামুনের স্বাদের গল্প নয়, স্থানীয় ব্যবসা ও জীবিকার গল্পও। আট দশকেরও বেশি সময় পরেও এই জনপদের পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে সেই মিষ্টি।