মতের অমিল হলেই ঝগড়া-অশান্তি? সঙ্গীকে অসম্মান না করে মতবিরোধ মেটাতে পারেন সাত উপায়ে
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ : ০৭
শেয়ার করুন
1
10
সম্পর্ক মানেই সব বিষয়ে দু’জনের মত এক হবে, এমন নয়। ভালোবাসার সম্পর্কেও মতের অমিল, অভিমান কিংবা ঝগড়া হতে পারে। কখনও অর্থ খরচ নিয়ে, কখনও পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে, আবার কখনও একে অপরকে সময় দেওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। কিন্তু সমস্যা হল, অনেক সময় সামান্য মতের অমিল থেকেই শুরু হয় তর্ক, দোষারোপ এবং পুরনো কথা নিয়ে অশান্তি। ধীরে ধীরে তার প্রভাব পড়ে সম্পর্কেও।
2
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, মতের অমিল হওয়া মানেই সম্পর্ক খারাপ, এমন নয়। বরং মতবিরোধের সময় দু’জন কীভাবে কথা বলছেন, একে অপরের কথা কতটা মন দিয়ে শুনছেন এবং সমস্যার সমাধান কীভাবে করছেন, তার উপর সম্পর্কের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে। তাই সঙ্গীর সঙ্গে মতের অমিল হলেও তাঁকে অসম্মান না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন, জেনে নিন সাতটি সহজ নিয়ম।
3
10
রাগের মাথায় অপমানজনক কথা বলবেন না। কোনও বিষয়ে সঙ্গীর উপর রাগ হতেই পারে। কিন্তু সেই রাগের বশে তাঁকে ছোট করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কিংবা অপমানজনক কথা বলা ঠিক নয়। রাগের মুহূর্তে বলা কিছু কথা দীর্ঘদিন মনে থেকে যেতে পারে। তাই সঙ্গীর চরিত্র নিয়ে মন্তব্য না করে, তাঁর কোন আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন, তা স্পষ্ট করে বলুন।
4
10
নিজের মনের কথা স্পষ্ট করে জানান। অনেক সময় সঙ্গী বুঝতেই পারেন না, তাঁর কোন আচরণে অন্যজন কষ্ট পেয়েছেন। তাই মুখ বন্ধ করে থাকা বা সঙ্গী নিজে থেকে সব বুঝে নেবেন বলে আশা করা উচিত নয়। বরং কোন বিষয়টি আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তা শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে।
5
10
শুধু নিজের বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করলে সমস্যা মিটবে না। সঙ্গী কী বলতে চাইছেন, তাঁর ভাবনার পিছনে কী কারণ রয়েছে, সেটাও বোঝার চেষ্টা করুন। কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা না দিয়ে তাঁকে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ দিন। দু’জনের কথা বলার সমান সুযোগ থাকলে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়
6
10
বর্তমানের কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অতীতের ভুল বা পুরনো ঝগড়ার প্রসঙ্গ তুলে আনলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই কথা বলুন। অতীতের কোনও ঘটনা বর্তমান সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলে তা নিয়ে নতুন করে তর্ক না করাই ভাল।
7
10
কথা বলতে বলতে যদি দু’জনেরই রাগ বেড়ে যায়, তাহলে সেই মুহূর্তে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছুক্ষণ বিরতি নিন। মন শান্ত হলে আবার কথা বলুন। তবে বিরতি নেওয়া মানে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া নয়। কখন আবার আলোচনা করবেন, সেটাও ঠিক করে নেওয়া ভাল।
8
10
একটি সম্পর্কের দু’জন মানুষের পছন্দ, চিন্তাভাবনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন আলাদা হতেই পারে। তাই প্রতিটি বিষয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা না করে, একে অপরের মতামতকে সম্মান করতে শিখুন। যে বিষয়ে দু’জনের মত আলাদা, সেখানে প্রয়োজনে মাঝামাঝি কোনও সমাধান খুঁজে নিতে পারেন। কিছু বিষয়ে মতের অমিল থাকলেও সম্পর্ক ভাল থাকতে পারে।
9
10
ঝগড়ায় নিজের বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণ করাই যদি একমাত্র লক্ষ্য হয়, তাহলে সমস্যা মেটার বদলে দূরত্ব বাড়তে পারে। মনে রাখুন, সম্পর্কে দু’জন একে অপরের প্রতিপক্ষ নন। তাই কে জিতলেন আর কে হারলেন, তা নিয়ে না ভেবে কীভাবে দু’জনের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়, সেদিকে নজর দিন। নিজের ভুল থাকলে ক্ষমা চাইতেও দ্বিধা করবেন না।
10
10
সুস্থ সম্পর্কে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতবিরোধের কারণে যেন একে অপরের প্রতি সম্মান নষ্ট না হয়। খোলামেলা আলোচনা, মন দিয়ে কথা শোনা এবং প্রয়োজনে সমঝোতার মাধ্যমে অনেক সমস্যাই মেটানো সম্ভব। তবে মতবিরোধ যদি নিয়মিত অপমান, ভয় দেখানো, নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পৌঁছয়, তা স্বাভাবিক ঝগড়া বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।