শারদোৎসবে বইবিপণি ঘিরে রাজ্যজুড়ে সংঘাত ও ভাঙচুরের অভিযোগের পর, সেই একই ‘বই রক্ষা ও প্রতিরোধ’ মডেলকে সামনে রেখে এবার বড়দিনের উৎসবের ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করল সিপিএম।
2
8
দুর্গাপূজার দিনগুলোতে বামপন্থী বুকস্টলে একাধিক হামলার ঘটনায় কমরেডরা যেভাবে ভাঙা স্টল আঁকড়ে ধরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং রেকর্ড বই বিক্রি করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাকে এবার ক্রিসমাসেও জোরালো রাজনৈতিক জনসংযোগের হাতিয়ার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
3
8
এই পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু সংবেদনশীল ঘটনাক্রম। সম্প্রতি বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবার প্রতিনিধিরা আলিমুদ্দিনে এসে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে হেরোদ মল্লিক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত কয়েক মাসে রাজ্যে তাঁদের সম্প্রদায়ের উপর একাধিক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে এবং কৃষ্ণনগর, সন্তোষপুর ও সন্দেশখালির গির্জায় হামলার অভিযোগও উঠেছে।
4
8
রাজ্য সরকারের তরফে আশানুরূপ পদক্ষেপ না মেলায় তাঁরা বামেদের পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বিজেপি নেতা এবং এমনকি আরএসএস প্রধানের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। আলিমুদ্দিনে আলোচনার প্রেক্ষিতে মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় এবং যে কোনও অশান্তি রুখতে প্রয়োজনে দলের ছাত্র-যুব বাহিনী সরাসরি ময়দানে নামবে।
5
8
বাম নেতৃত্বের ধারণা, উৎসবের আবহে মেরুকরণ বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। তাই আগেভাগেই জেলায় জেলায় সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে বাংলাভাষী খ্রিস্টানদের বসবাস বেশি, যেমন নদিয়ার রানাঘাট বা কৃষ্ণনগর, সেখানে আলাদা নজর রাখছে দল। ইতিমধ্যেই সেলিম নিজে নদিয়ায় গিয়ে জেলা কমিটির বৈঠকে ক্রিসমাস পর্বের প্রস্তুতি নিয়ে বার্তা দিয়ে এসেছেন।
6
8
সাধারণত বড়দিনে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট বা বো ব্যারাকের মতো চার্চ সংলগ্ন এলাকায় সীমিত কয়েকটি স্টল করে থাকে বামেরা। কিন্তু এবার সেই চেনা ছক ভেঙে পার্ক স্ট্রিট, ব্যান্ডেল থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় চার্চ চত্বরে বুকস্টলের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানোর নীলনকশা তৈরি হচ্ছে।শুধু কার্ল মার্কস বা লেনিন নয়, দুর্গাপূজার মতোই সেখানে জায়গা পাবে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র বা সমকালীন সাহিত্যও। ছাত্র-যুব কর্মীদের আরও বেশি করে এই উৎসবে সম্পৃক্ত করতে সান্তা ক্লজের লাল পোশাক এবং উৎসবের আমেজকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।
7
8
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র দ্বিমেরুকরণের মুখে কোণঠাসা হয়ে থাকা বামেরা শারদোৎসবের বুকস্টল কাণ্ড থেকে নতুন রাজনৈতিক রসদ খুঁজে পেয়েছে।
8
8
দলীয় নেতৃত্বের অনেকেরই দাবি, বাধা ও আক্রমণের মুখে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁদের বুকস্টল নিয়ে যে নতুন সহানুভূতি ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা সংগঠনকে কিছুটা হলেও অক্সিজেন জুগিয়েছে। বড়দিনেও সেই একই উদ্যমে বইকে সামনে রেখে বহুত্ববাদ রক্ষা এবং তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ পোক্ত করাই এখন আলিমুদ্দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।