প্রত্যেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানের জন্য বড় স্বপ্ন দেখেন। আশা করেন যে সন্তান সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে। বাবা-মা চান তাঁদের সন্তান পড়াশোনায় ভাল করুক, পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করুক। সন্তানদের স্বার্থে বর্তমান সময়ে কেবল কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে উচ্চশিক্ষার খরচ বেড়েছে এবং পেশাগত কোর্সগুলো ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায়, কেবল সাধারণ সঞ্চয়ই যথেষ্ট নয়। বরং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
2
7
সঠিক সময়ে এবং সঠিক খাতে বিনিয়োগ শুরু করলে সামান্য সঞ্চয়ের মাধ্যমেই আপনি আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারেন। বর্তমানে সরকার এমন কিছু প্রকল্প পরিচালনা করছে যার মাধ্যমে আপনি কোনও ঝুঁকি ছাড়াই একটি বড় অঙ্কের তহবিল গড়ে তুলতে পারেন। এই প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু সেরা বিনিয়োগের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করব, যার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের জন্য স্বল্প সঞ্চয়ে বড় তহবিল তৈরি করতে পারবেন।
3
7
এনপিএস বাৎসল্য প্রকল্প: এই প্রকল্পে বিনিয়োগ ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করা যায়। বিনিয়োগের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। সন্তানের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সাধারণ এনপিএস অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়। এর অর্থ হল, জমাকৃত অর্থ পরবর্তীতে সন্তানের অবসরকালীন প্রয়োজনেও কাজে আসতে পারে।
4
7
রেকারিং ডিপোজিট প্রকল্প: যারা প্রতি মাসে অল্প পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি প্রকল্প একটি চমৎকার বিকল্প। এতে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করতে হয় এবং তার ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। এর একটি বড় সুবিধা হল, খুব সামান্য পরিমাণ অর্থ দিয়েও এটি শুরু করা যায়, ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষেও সন্তানের জন্য সঞ্চয় করা সহজ হয়।
5
7
পিপিএফ প্রকল্প: পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ-কে শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাবা-মা তাঁদের সন্তানের নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব এবং বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। বর্তমানে এতে ৭.১ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ১৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ বজায় রাখতে হয়। এর একটি বড় সুবিধা হল, মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ করমুক্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ জমতে থাকে এবং একটি বড় তহবিল গড়ে ওঠে।
6
7
চিলড্রেনস মিউচুয়াল ফান্ড কী? শিশুদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভাল মুনাফা দিতে পারে> তবে এতে কিছুটা ঝুঁকিও থাকে, কারণ এই ফান্ডগুলো বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। এগুলো মূলত শিশুদের ভবিষ্যতের বিভিন্ন খরচ, যেমন পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। বাজারে বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- এইচডিএফসি চিলড্রেনস ফান্ড, আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল চাইল্ড কেয়ার ফান্ড এবং এসবিআই ম্যাগনাম চিলড্রেনস বেনিফিট ফান্ড।
7
7
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা হল কন্যাশিশুদের জন্য সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প। ১০ বছর বা তার কম বয়সী কন্যাশিশুর নামে এই প্রকল্পে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং মাত্র ২৫০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব। এতে প্রায় ৮.২ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায় এবং ২১ বছর পর এই প্রকল্পের মেয়াদ পূর্ণ হয়। এছাড়া এতে আয়করের সুবিধাও রয়েছে, যা কন্যার পড়াশোনা ও বিয়ের খরচ জোগানোর জন্য এটিকে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রকল্পে পরিণত করেছে।