নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দামামা বাজতেই বাম শিবিরের অন্দরে আবারও শুরু হয়েছে পুরনো টানাপোড়েন। বামফ্রন্টের তরফে এখনও এই আসনে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, এমনকি শরিকি স্তরে আলোচনাও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
2
8
অথচ শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের তোয়াক্কা না করেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিআই কর্মী-সমর্থকেরা কাস্তে-ধানের শিষ প্রতীক ও দলীয় নাম দিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন। দেওয়ালে প্রার্থীর জায়গাটি ফাঁকা রাখা হলেও, জোটের সিদ্ধান্তের আগেই এই তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— নন্দীগ্রামের জমি সহজে কাউকে ছাড়তে নারাজ সিপিআই।
3
8
নন্দীগ্রাম আসনকে কেন্দ্র করে বামেদের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগের বিধানসভা নির্বাচনেও এই কেন্দ্র নিয়ে জোটের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেবার বামফ্রন্টের রাজ্য নেতৃত্ব আসনটি ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-কে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শবে মিরাজ আলীকে সমর্থন জানায়।
4
8
কিন্তু তার আগেই সিপিআই তাদের স্থানীয় নেত্রী শান্তি গিরির নাম ঘোষণা করে ময়দানে নেমে পড়েছিল। শেষমুহূর্তে আসন ছাড়ার নির্দেশে স্থানীয় সিপিআই নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে কার্যত উপেক্ষা করেই সেবার নিজস্ব প্রচার বজায় রেখেছিল তারা। স্থানীয় নেতাদের দাবি, সেই ভোটে বামফ্রন্ট সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থীর তুলনায় একা লড়েই অনেক বেশি জনসমর্থন ও ভোট আদায় করেছিল সিপিআই।
5
8
নন্দীগ্রাম আসন নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের পক্ষে ঐতিহ্যের যুক্তিও তুলে ধরছে সিপিআই নেতৃত্ব। দলের নেতা গৌতম পণ্ডা সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক খাজনা আন্দোলন— নন্দীগ্রামের কৃষক ও ভূমি আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকে সিপিআই নেতৃত্বের লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
6
8
দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলটি সিপিআই-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং অতীতে একাধিকবার এখান থেকে দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে বিধানসভায় গেছেন। ফলে নিজেদের সেই ঐতিহাসিক জমি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এবারও নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার দাবি তৃণমূল স্তরে অত্যন্ত জোরালো।
7
8
অন্যদিকে, বড় শরিক সিপিআই(এম) বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মেপে পা ফেলতে চাইছে। দলের নেতা হিমাংশু দাস অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, বামফ্রন্টের যৌথ বৈঠকে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা নিয়মবিরুদ্ধ। তবে স্থানীয় কর্মীদের বাড়তি উৎসাহে দেওয়াল লেখাকে তিনি খুব একটা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, ভোটের প্রচারে বামেরা বরাবরই অন্যদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে থাকে, তাই প্রার্থীর জায়গা ফাঁকা রেখে প্রতীক আঁকা প্রচারে নামারই একটি অঙ্গ।
8
8
শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে বামেদের তরফে সিপিআই-এর কোনও নেতাই লড়বেন, নাকি অন্য কোনও শরিকি সমীকরণ উঠে আসবে— তা বামফ্রন্টের শীর্ষ বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে। তবে প্রার্থী ঘোষণার আগেই নিচুতলার কর্মীদের এই আগাম সক্রিয়তা আসন্ন উপনির্বাচনে বাম জোটের সমীকরণে যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।