ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৮ জুন থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের ওপর একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রভাব ফেলতে পারে। এর জেরে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং রাজস্থানের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
2
11
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন একটি নিম্নচাপ-ভিত্তিক আবহাওয়া ব্যবস্থা, যা উত্তর ভারতে পৌঁছে আকস্মিক বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সৃষ্টি করে।
3
11
এদিকে, ১ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত দেশের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়িয়েছে। IMD-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৭৪১টি জেলার মধ্যে ২৪৫টি জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম এবং ২১৪টি জেলায় অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ জেলা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির ঘাটতির মুখে পড়েছে।
4
11
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও এগিয়ে তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ছত্তীসগঢ়ের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবেশ করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
5
11
চলতি বছর বর্ষা কেরলে ৪ জুন প্রবেশ করে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন দিন দেরিতে। ইতিমধ্যেই কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটকের অধিকাংশ এলাকা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহারের কিছু অংশ এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা পৌঁছে গিয়েছে।
6
11
উত্তর-পশ্চিম ভারতের পাশাপাশি রাজস্থানে ১৭ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ধুলোঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে IMD। এছাড়া ১৭ থেকে ২৩ জুনের মধ্যে উত্তর ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে বিস্তৃত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
7
11
দিল্লি, চণ্ডীগড় এবং পাঞ্জাবে বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ থেকে ২৩ জুনের মধ্যে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে মহারাষ্ট্র ও গোয়ার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
8
11
উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরাতেও আগামী সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকাল, কেরল এবং মাহে অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
9
11
ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কেরল ও তামিলনাড়ুর কৃষকদের ধান, মিলেট, আখ, চিনাবাদাম, শাকসবজি এবং কলা, নারকেল, আদা ও গোলমরিচের মতো বাগান ফসলের জমিতে পর্যাপ্ত জলনিকাশের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছে IMD।
10
11
এদিকে জুন মাস থেকেই দেশের খরিফ মরশুমের বপন শুরু হয়। বর্ষার অগ্রগতি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের মোট বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই খরিফ ফসল থেকে আসে।
11
11
তবে বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অংশে তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও বজায় রয়েছে। IMD জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত বিহার, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, বিদর্ভ, মরাঠওয়াড়া এবং ছত্তীসগঢ়ের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ১৮ ও ১৯ জুন দিল্লিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।