স্বামীর ঘর না জেলখানা? আদালতের প্রশ্নে ১১ বছরের মেয়ে বেছে নিয়েছিলেন কারাবাস! সেই সাহসই বদলাল দেশের আইন, মেয়েদের জীবন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩ আগস্ট ২০২৬ ১৮ : ৩৪
শেয়ার করুন
1
16
সময়টা এমন ছিল, যখন সমাজের নিয়মই ছিল মেয়েদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেওয়া। ছোটবেলায় বিয়ে, স্বামীর ঘরই জীবনের একমাত্র ঠিকানা—এই ছিল বাস্তবতা।
2
16
সেই সমাজেই মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল রুখমাবাঈ রাউতের। কিন্তু তিনি বুঝেছিলেন, বিয়ে মানেই নিজের ইচ্ছা, শিক্ষা আর স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেওয়া নয়।
3
16
মাত্র এগারো বছর বয়সে উনিশ বছরের দাদাজি ভিকাজির সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় ছোট্ট মেয়েটির। কিন্তু সেই বয়সেই সমাজের চোখে চোখ রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন — স্বামীর ঘরে যাবেন না, পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন সৎবাবার তত্ত্বাবধানে।
4
16
মাত্র এগারো বছর বয়সে উনিশ বছরের দাদাজি ভিকাজির সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় ছোট্ট মেয়েটির। কিন্তু সেই বয়সেই সমাজের চোখে চোখ রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন — স্বামীর ঘরে যাবেন না, পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন সৎবাবার তত্ত্বাবধানে।
5
16
তাঁর মা জয়ন্তীবাঈ নিজেও ছিলেন বাল্যবিবাহের শিকার। চোদ্দোয় বিয়ে, পনেরোয় মা, সতেরোয় বিধবা। সেই জয়ন্তীবাঈ-ই পরে বিয়ে করেন প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সখারাম অর্জুনকে, মেয়ের জীবনে যিনি হয়ে ওঠেন শিক্ষার আলো।
6
16
এরপর আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮৮৪ সালে বম্বে হাইকোর্টে দাম্পত্য অধিকার ফিরে পাওয়ার মামলা করেন দাদাজি।
7
16
আদালত রায় দেয় হয় স্বামীর ঘরে ফিরতে হবে, নয়তো জেলে যেতে হবে। রুখমাবাঈ দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়ে দেন, যে বিয়েতে তাঁর সম্মতিই ছিল না, সেই সংসারে ঢোকার চেয়ে কারাবাসই তাঁর কাছে শ্রেয়।
8
16
ভাবা যায়? উনিশ শতকের ভারতে, যেখানে মেয়েদের মুখ খোলাই ছিল অপরাধ, সেখানে বাইশ বছরের এক তরুণী ব্রিটিশ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করছেন!
9
16
কিন্তু রুখমাবাঈ বেছে নিলেন স্বাধীনতা, প্রয়োজনে কারাগারেও যেতে রাজি ছিলেন, কিন্তু নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংসার করবেন না। এই মামলাকে ঘিরে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।
10
16
এই মামলা ঘিরে ভারত ও ব্রিটেন — দুই দেশেই শোরগোল পড়ে যায়। 'আ হিন্দু লেডি' ছদ্মনামে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একের পর এক চিঠি লিখে বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন রুখমাবাঈ, আর ধীরে ধীরে জনমত ঘুরে যায় তাঁর পক্ষে।
11
16
শেষমেশ রানি ভিক্টোরিয়ার কাছে আবেদন জানান তিনি, যদিও মামলার নিষ্পত্তিতে স্বামীকে দিতে হয় ২০০০ টাকা। কিন্তু ওই টাকায় তিনি কিনেছিলেন যা, তার নাম — স্বাধীনতা। তাঁর এই আইনি লড়াই-ই পরবর্তীতে ১৮৯১ সালের 'এজ অফ কনসেন্ট অ্যাক্ট' পাশের পথ প্রশস্ত করে।
12
16
মুক্তির পর শুরু জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। সমাজ সংস্কারকদের সহায়তায় ইংল্যান্ডে গিয়ে ডাক্তারি পড়েন রুখমাবাঈ। ১৮৯৫ সালে সুরাটে চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন, প্লেগ মহামারিতে সেবার স্বীকৃতিতে পান 'কাইজার-ই-হিন্দ' রৌপ্য পদক।
13
16
সুরাটের মহিলা হাসপাতালে চিফ মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দুই দশক কাজ করেন তিনি, পরে ১৯১৮ সালে রাজকোটের জেনানা হাসপাতালে যোগ দিয়ে সেখানে রেড ক্রস সোসাইটিও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৫ সালে ৯০ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি।
14
16
যে মেয়েটিকে সমাজ বলেছিল "মেনে নাও", সে ইতিহাসকে বাধ্য করেছিল তাঁকে মনে রাখতে। এগারো বছরের সেই কনের 'না' আজও প্রতিটি মেয়ের 'হ্যাঁ' বলার অধিকারের ভিত।
15
16
রুখমাবাঈ রাউতের জীবন আমাদের শেখায়, সাহস মানে শুধু প্রতিবাদ নয়, নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার শক্তি। সমাজের বিরুদ্ধেও যদি সত্যের পাশে দাঁড়ানো যায়, তবে ইতিহাস একদিন সেই মানুষকেই মনে রাখে।
16
16
আজও তাঁর গল্প প্রতিটি মেয়েকে মনে করিয়ে দেয়— শত বাধা, অপমান আর ভয়কে জয় করার জন্য চাই সাহস আর হার না মানা জেদ৷ রুখমাবাঈ প্রমাণ করেছিলেন, একজন নারীর স্বপ্নকে কোনও সামাজিক শৃঙ্খল চিরকাল আটকে রাখতে পারে না। তাঁর জীবন আজও স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং আত্মমর্যাদার এক অনন্য অনুপ্রেরণা।