আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে চা শ্রমিকেরা বঞ্চনার শিকার। কখনও মিলছে না বেতন। জুটছে না ন্যূনতম মজুরি। সামাজিক সুরক্ষার নানা সুযোগসুবিধাও দুরস্ত। তার মধ্যে একের পর এক চা বাগান বন্ধের খবর। অভিযোগ ভুরি ভুরি। এ বার সেই চা শ্রমিকের কথা ভেবে বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা সরকারের।
2
8
সোমবার ছিল রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কালই ছিল প্রথম রাজ্য বাজেট। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় অধিবেশন। সেখানে একের পর এক ক্ষেত্রে নিয়ে বাজেট প্রস্তাবনা রাখেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
3
8
এ বারের বাজেটে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্যও বেশ কিছু ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চা শ্রমিকদের নিম্নমানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। পাশাপাশি, খাদ্যসুরক্ষা, দেরিতে মজুরি পাওয়ার-মতো নানা সমস্যা নিয়েও তারা অবগত।
4
8
সে জন্য এ বার এই সমস্যাগুলির সামগ্রিক সমাধানের লক্ষ্যে চা শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড বা টি ওয়ার্কার্স ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠনের প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে। বোর্ডটি চা বাগানের শ্রমিকদের নানা কল্যাণকর প্রকল্পের খতিয়ান রাখবে। তাদের উপরেই থাকবে সমস্ত বিষয় তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব। এর মধ্যে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্ত সুযোগসুবিধা থেকে শুরু করে আধুনিক আবাসন বা অন্যান্য সামাজিক সুবিধা বণ্টনের মতো বিষয়গুলির উপরেও নজর দেওয়া হবে।
5
8
একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের সার্বিক উন্নয়ন এবং জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী সরকার। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, এ জন্য 'পিএম চা শ্রমিক প্রোৎসাহন' যোজনা চালু করা হবে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, চা বাগানের শ্রমিক ও তার পরিবারের জীবনযাত্রার মান্নোয়ন।
6
8
এই প্রকল্পের অধীনেই সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা, বাসস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টি বৃদ্ধি, জীবিকায় বৈচিত্র্য আনার মতো নানাবিধ কল্যাণমূলক পদক্ষেপকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
7
8
পাশাপাশি, রাজ্য সরকার বন্ধ চা বাগান নিয়েও উদ্বিগ্ন। এ জন্য বন্ধ চা বাগানগুলির সমস্যার সমাধান এবং চা শিল্পের সার্বিক অবস্থার সুরাহার জন্য গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও বাজেটে জানানো হয়েছে।
8
8
অর্থমন্ত্রী এ দিন চা শ্রমিকদের আরও একটি ক্ষোভের জায়গা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের চা পর্যটন নীতি এবং চা বাগানের ৩০ শতাংশ জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এই নিয়ে শ্রমিকদের অসন্তোষের কথা আমি শুনেছি।" এ নিয়ে চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু সংলগ্ন অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের পরিবেশের ভারসাম্য নিয়ে যে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা তিনি জানেন।
তাই প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে, চা বাগান অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার্থে, চা পর্যটন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজের জন্য চা বাগানের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। বাজেটে এমনই প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।