গত সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন উত্থান দেখা গেল। প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি ফিফটি দুই গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক লাভ করেছে। বিশ্ব বাজারে ইতিবাচক সংকেত, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধার—এই সব মিলিয়ে বাজারে এই জোরালো র্যা্লি দেখা যায়।
2
8
সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে ইতিবাচক সুর তৈরি হয়। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক ক্রয় এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সমর্থনে সূচকগুলি দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং অটো খাতের শেয়ারে শক্তিশালী কেনাবেচা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সপ্তাহের শেষে সেনসেক্স কয়েক হাজার পয়েন্ট লাফিয়ে ওঠে এবং নিফটি ফিফটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
3
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির গতি কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিশ্বজুড়ে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
4
8
দ্বিতীয়ত, ক্রুড অয়েলের দাম স্থিতিশীল থাকায় ভারতের আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। তৃতীয়ত, দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলিও বেশ শক্তিশালী রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
5
8
ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারগুলিতে বিশেষভাবে উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বড় বড় বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির শেয়ার ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। পাশাপাশি আইটি খাতেও ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ মার্কিন বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। অটো খাতেও বিক্রির ভালো পরিসংখ্যান বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে।
6
8
মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারগুলিও এই হিসেবে পিছিয়ে থাকেনি। বহু মিডক্যাপ কোম্পানির শেয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই দ্রুত উত্থানের পর কিছুটা লাভবুকিং দেখা যেতে পারে।
7
8
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের সপ্তাহগুলিতে বাজারের গতি নির্ভর করবে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির ওপর। এছাড়া কর্পোরেট আয়ের রিপোর্টও বাজারের দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
8
8
সার্বিকভাবে বলা যায়, গত সপ্তাহের এই অবস্থা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরিয়ে এনেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা এবং সঠিক স্টক নির্বাচন করা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।