আর কয়েক বছরেই নিশ্চিহ্ন সুন্দরবন! উদ্বাস্তুদের চাপে ভেঙে পড়বে তিলোত্তমা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ : ৩৪
শেয়ার করুন
1
8
প্রকৃতির একের পর এক সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করার চরম মাশুল গুনতে চলেছে তিলোত্তমা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক এক আশঙ্কাজনক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ডেবে যাচ্ছে কলকাতা শহর, যার ফলে প্রত্যক্ষ বিপদের মুখে পড়তে চলেছেন অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ।
2
8
শুধু কলকাতা নয়, এই ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে মুম্বই ও ঢাকার মতো দক্ষিণ এশিয়ার আরও বেশ কয়েকটি জনবহুল মহানগর। পরিবেশবিদদের মতে, এই বিপর্যয় কোনও আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চালানো ‘পরিবেশগত অপরাধের’ নির্মম পরিণতি।
3
8
বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র দুশো কিলোমিটার দূরত্বে থাকা কলকাতা ভৌগোলিকভাবেই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বৃদ্ধি যখন প্রায় ৫.৯৯ মিলিমিটার, তখন ডায়মন্ড হারবার ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জলস্তর বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ—১২.৯৯ মিলিমিটার।
4
8
তার ওপর ভরা কোটালে গঙ্গার জোয়ারের জল ১৮ থেকে ২২ ফুট পর্যন্ত আছড়ে পড়ছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভূগর্ভস্থ জল তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে গোটা মহানগরীটাই বসে যাচ্ছে।
5
8
শহরের এই দুর্দশার নেপথ্যে রয়েছে চরম অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতা। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পূর্ব কলকাতা জলাভূমির মতো প্রাকৃতিক কিডনির প্রায় ৬০ শতাংশ অংশই আজ আবাসন আর কংক্রিটের লোভে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
6
8
প্লাস্টিক বর্জ্যের দৌলতে শহরের নিকাশি নালাগুলো প্রায় পুরোপুরি বুজে গেছে, যার জেরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলবন্দি হয়ে পড়ছে রাজপথ। নদীপাড়ের সবুজ ধ্বংস করে রাজনৈতিক স্বার্থে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বস্তি, যার ফলে নদী সংরক্ষণ সংক্রান্ত কঠোর আইন আজও কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
7
8
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে কেবল উপকূল ও নদীপাড়ের অন্তত এক কোটি মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে ‘পরিবেশগত শরণার্থী’ হতে বাধ্য হবেন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, কলকাতায় বর্তমানে উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ মাত্র এক শতাংশ; ফলে দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়ার মতো এক চিলতে জমিও শহরের হাতে অবশিষ্ট নেই।
8
8
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই অবিলম্বে ভূগর্ভস্থ জলের কৃত্রিম রিচার্জ শুরু করা, গঙ্গাপাড়জুড়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা।