বাঙালির উৎসব মানেই পাতে নানা রকমের পদ। আর রান্নাপুজো ও বিশ্বকর্মা পুজোর আগে সেই তালিকায় ইলিশের উপস্থিতি যেন অনেক পরিবারের কাছেই অপরিহার্য। পুজোর বিশেষ দিনে ইলিশ রান্নার প্রচলন বহু পুরনো। তাই উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ইলিশ মাছের চাহিদা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজার মৎস্য আড়তে তারই ছবি ধরা পড়েছে। মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আর সেই পসরা ঘিরে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
2
9
হুগলি নদীর ইলিশ থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের ইলিশ- বিভিন্ন আকার ও দামের মাছ নিয়ে প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। পুজোর বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাছ সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তবে বাজারে চাহিদা বাড়লেও জোগান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নদীতে মাছের জোগান কমেছে। ফলে আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা মাছ না থাকায় হিমঘরে সংরক্ষিত মাছের উপরেও নির্ভর করতে হচ্ছে।
3
9
বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারের বাজারে হুগলি নদীর ইলিশের বিভিন্ন দামের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। দেড় কেজি থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আবার ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ৯০০ টাকা কেজি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অর্থাৎ, মাছের ওজন ও মান অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে।
4
9
শুধু হুগলি নদীর ইলিশ নয়, বাজারে রয়েছে মুম্বইয়ের ইলিশও। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের মুম্বইয়ের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। ফলে তুলনামূলকভাবে কম বাজেটে ইলিশ কিনতে চাইছেন যে সমস্ত ক্রেতা, তাঁদের একাংশের কাছে এই মাছও বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে মাছের আকার, সতেজতা এবং উৎস অনুযায়ী দামের তারতম্য থাকছে।
5
9
মৎস্য ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, রান্নাপুজো উপলক্ষে বাজারে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। প্রায় এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। দেড় কেজি থেকে দুই কেজি ওজনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। তাঁর বক্তব্য, রান্নাপুজো এবং বিশ্বকর্মা পুজোর দুদিন ইলিশের চাহিদা আরও থাকবে। উৎসব শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে সেই চাহিদা কমতে পারে।
6
9
অন্যদিকে, ইলিশ ব্যবসায়ী রিক সিংহ রায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে স্থানীয় ইলিশের জোগান ও দামের প্রসঙ্গ। তিনি জানান, নামখানা ও বকখালি থেকে আসা এক কেজি ওজনের স্থানীয় ইলিশের দাম ২,২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি বাজারে মুম্বইয়ের ইলিশও রয়েছে, যার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বলে জানান তিনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের মাছের দামও প্রায় ৮৫০ টাকা কেজি বলে উল্লেখ করেন ওই ব্যবসায়ী।
7
9
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে মাছ ধরার কাজে। নদীতে প্রত্যাশিত পরিমাণে মাছ না মেলায় আড়তে জোগান কমেছে। ফলে বাজারে চাহিদা থাকলেও সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের কথায়, ভালো বৃষ্টি হওয়ার পরও নদীতে মাছের জোগান আশানুরূপ নয়। আড়তে মাছের পরিমাণ কম থাকায় হিমঘরে সংরক্ষিত মাছের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এর ফলে মাছের ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।
8
9
তবে ক্রেতাদের বক্তব্যে কিছুটা স্বস্তির ছবি উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, রান্নাপুজোর বাজার এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইলিশ মাছের চাহিদা রয়েছে, পাশাপাশি বাজারে জোগানও রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের দাম এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর আশা, পুজোর বাজারে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না।
9
9
সব মিলিয়ে রান্নাপুজো ও বিশ্বকর্মা পুজোর আগে ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজারে ইলিশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। চাহিদা বেড়েছে, ক্রেতাদের ভিড়ও রয়েছে। তবে নদীতে মাছের জোগান, হিমঘরের উপর নির্ভরতা এবং মাছের দামের ওঠানামা- এই তিন বিষয়েই নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। উৎসবের দুদিন বাঙালির পাতে ইলিশ কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মাছের বাজার।