কী হয় যখন আপনি লোক দেখানোর জন্য বা নিজেকে জাহির করার জন্য বিমানবন্দর তৈরি করেন। সাধারণ মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, কোটি কোটি করদাতাদের টাকা খরচ হয়, কর্মসংস্থানের বড় বড় বুলি আওড়ানো হয়, এলাকার চেহারা বদলে যাওয়ার ছবি তুলে ধরা হয়।
2
11
কিন্তু কয়েক বছর পরেই মানুষের ভুল ভাঙে। সকলে বুঝতে পারেন যথাযথ সমীক্ষা না করেই কাজ করা হয়েছে। আদৌ কারও কাজে লাগবে কি না, সেই বিষয়ে চিন্তা করা হয়নি। এখন বিমানবন্দরগুলি পড়ে রয়েছে এমনিই। কোনও যাত্রী পা ফেলে না সেগুলিতে।
3
11
উত্তরপ্রদেশে আপনাকে স্বাগতম। আরটিআই তথ্যের সাহায্যে ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি তদন্তে দেখা গিয়েছে যে ‘উড়ান’ প্রকল্পের অধীনে উত্তরপ্রদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রকল্প ভেঙে পড়েছে।
4
11
ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এএআই) একটি আরটিআইয়ের উত্তরে জানিয়েছে, ২০২১ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা উত্তরপ্রদেশের সাতটি বিমানবন্দরের মধ্যে ছয়টি আজ পরিত্যক্ত। সেগুলিতে কোনও নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামা করে না।
5
11
আজমগড়, আলিগড়, মোরাদাবাদ, চিত্রকূট, শ্রাবস্তী এবং কুশিনগর বিমানবন্দরগুলি অত্যন্ত রাজনৈতিক ধুমধাম এবং বিপুল জনসমারোহে উদ্বোধন করা হয়েছিল।
6
11
আরটিআই তথ্য অনুসারে, কুশিনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে কেবল প্রায় ৩২৭.৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকার মিলে এই ব্যয় করেছে।
২০২২ সালের মার্চে কুশিনগরে ৫৪টি ফ্লাইট ওটানামা করেছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে, সংখ্যাটি নেমে আসে ৬টিতে। এরপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। আজমগড় এবং চিত্রকূট মাত্র ৮-৯ মাস চলেছিল। মোরাদাবাদ মাত্র তিন মাস।
9
11
উদ্বোধনী ফ্লাইটের পরপরই শ্রাবস্তী এবং আলিগড় বন্ধ হয়ে যায়। স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও, কুশিনগরে পরিচালন ব্যয় অব্যাহত ছিল, শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ সালে ৭.১৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়। এই বিমানবন্দরগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ‘উড়ান’ (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হয়েছিল।
10
11
‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ এর অর্থ ‘সাধারণ নাগরিকের জন্য উড়ান’। তবে, যোগী সরকার মনে হয় ভুলে গিয়েছিল যে ভারতে প্রতি পরিবারের আয় (দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক সহ) প্রতি মাসে প্রায় ২৪,০০০ টাকা। গড় ভারতীয়দের জন্য টিকিটের দাম অনেক বেশি। যা দেখে মনে হচ্ছে, কোনও পরীক্ষানিরীক্ষা না করেই প্রকল্পগুলি ঘোষণা করা হয়েছিল।
11
11
ইন্ডিয়া স্ট্যাটস ইউপি ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাক্টবুকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ সালে উপরোক্ত ছ’টি জেলার মাথাপিছু বার্ষিক আয় আজমগড়ে ১,৪৮,৬৫২ টাকা, আলিগড়ে ১,৯৪,৩৭৮ টাকা, মোরাদাবাদে ২,৮৬,৫৭০ টাকা, চিত্রকূটে ২,৮১,২১৬ টাকা, শ্রাবস্তী ২,৭০,৬১৫ টাকা এবং কুশিনগরে ২,৫৪,৫৬৯ টাকা মাত্র।