এতদিন ইউপিআই -তে টাকা পাঠানো বা দোকানে কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ীর সামনে আলাদা কোনও লেনদেনের ফি দেখা যেত না। এই শূন্য মডেলই ইউপিআই-কে দ্রুত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে।
2
13
১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালু হবে। ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট ইউপিআই মার্চেন্ট পেমেন্টে ০.৪ শতাংশ এমডিআর প্রযোজ্য হবে।
3
13
এই খরচ গ্রাহককে নয়, সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যবসায়ীকে বহন করতে হবে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর সর্বোচ্চ সীমা থাকবে ৩০০ টাকা।
4
13
তবে সব ধরনের লেনদেনে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। একজন ব্যক্তি বন্ধুকে ৫,০০০ টাকা পাঠালে কোনও এমডিআর দিতে হবে না। অর্থাৎ লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। নির্দিষ্ট কিছু ছোট ব্যবসায়ীও সাধারণ এমডিআর কাঠামোর বাইরে থাকবেন।
5
13
কিছু ক্ষেত্রে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রেল, জ্বালানি, টেলিকম এবং বিমার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ৫ টাকা ফ্ল্যাট এমডিআর-র ব্যবস্থা থাকবে। আবার ক্যাপিটাল মার্কেট সংক্রান্ত লেনদেনে এমডিআর হবে ০.০২ শতাংশ, সেখানেও সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা।
6
13
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই এমডিআর গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ ব্যবসায়ী চাইলে নতুন এমডিআর খরচ সরাসরি ক্রেতার বিলের সঙ্গে যোগ করতে পারবেন না।
7
13
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ইউপিআই কার্যত বিনামূল্যে থাকার পর এখন কেন এমডিআর ফিরছে? এর পিছনে রয়েছে ইউপিআই পরিচালনার বিপুল খরচ। ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং বিশাল সংখ্যক লেনদেন সামলানোর জন্য নিয়মিত খরচ হয়।
8
13
২০২৬ সালের আগস্টে এনপিসিআই তথ্য অনুযায়ী, ইউপিআই প্রায় ২৪.৫১ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৯.৮২ লক্ষ কোটি টাকা। এত বড় পরিসরে সামান্য ফিও বিপুল অর্থে পরিণত হতে পারে।
9
13
শূন্য-এমডিআর ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য সরকার এতদিন বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে এই খাতে সরকারের ব্যয় ছিল ১,৩৮৯ কোটি টাকা।
10
13
২০২২-২৩ সালে তা বেড়ে ২,২১০ কোটি এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩,৬৩১ কোটি টাকা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে শূন্য-এমডিআর কাঠামোকে সমর্থন করতে ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
11
13
অন্যদিকে, সংসদের অর্থ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি একটি শিল্প-অনুমানের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিল, ইউপিআই ব্যবস্থার বার্ষিক পরিচালন খরচ প্রায় ২০,৭০০ কোটি টাকা হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের বড় ফারাক রয়েছে।
12
13
তবে এর আর্থিক সুবিধার অন্য দিকও রয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়লে নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহণ, সংরক্ষণ, গণনা ও নিরাপত্তার মতো খরচ কমতে পারে। আরবিআই জানিয়েছিল, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে শুধু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মুদ্রণ খাতেই খরচ হয়েছিল ৪,৯৮৪.৮০ কোটি টাকা।
13
13
অর্থাৎ বিতর্কটি শুধু ইউপিআই-তে টাকা নেওয়া উচিত কি না’—এমন সরল প্রশ্ন নয়। মূল বিষয় হল, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি খরচ কে বহন করবে এবং সেই ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।