এবার টেমসের তীরে গঙ্গা আরতি! লন্ডনে হাজার হাজার মানুষের সামনে জ্বলে উঠল প্রদীপ, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কীভাবে হল আয়োজন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ : ০৯
শেয়ার করুন
1
10
ভারতের গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যার আরতির দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত গোটা দেশ। বারাণসী, হরিদ্বার কিংবা ঋষিকেশে সূর্য ডোবার সময় নদীর সামনে একসঙ্গে জ্বলে ওঠে অসংখ্য প্রদীপ, ভেসে আসে মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তিগীতি। এবার সেই চেনা ছবি দেখা গেল সুদূর লন্ডনে। তবে গঙ্গার তীরে নয়, এবার আরতির আলোয় সেজে উঠল টেমস নদীর তীর।
2
10
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ঐতিহাসিক ওল্ড রয়্যাল নেভাল কলেজ, গ্রিনউইচে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হল ‘গঙ্গা আরতি অন দ্য টেমস: আ সেরিমনি অফ লাইট’। অনুষ্ঠানে যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। নদীর তীরে একসঙ্গে জ্বলে ওঠে বহুস্তরীয় তেলের প্রদীপ।
3
10
মন্ত্রোচ্চারণ, প্রার্থনা ও সঙ্গীতের সঙ্গে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। লন্ডনের বিখ্যাত শহুরে পরিসরের মধ্যে এমন ভারতীয় আধ্যাত্মিক রীতি দেখে মুগ্ধ হন উপস্থিত মানুষজন।
4
10
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চিন্ময় মিশন ইউকে, বার্ষিক ‘টোটালি টেমস’ উৎসবের সঙ্গে সহযোগিতায়। চিন্ময় মিশনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে যে অনুষ্ঠানগুলি হচ্ছে, তারই অংশ ছিল এই আয়োজন। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল আলো, কৃতজ্ঞতা ও ঐক্য।
5
10
গঙ্গার আরতি টেমসে কেন? আসলে গঙ্গা শুধু একটি নদীর নাম নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক প্রতীক। গঙ্গার তীরে আরতি করার মাধ্যমে নদী, প্রকৃতি এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
6
10
সেই ভাবনাকেই এবার লন্ডনের টেমসের তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গা তাঁদের কাছে শুধু একটি পবিত্র নদী নয়, জ্ঞান ও চেতনার প্রবাহেরও প্রতীক। ফলে টেমসের তীরে এই অনুষ্ঠান কোনও নদীকে অন্য নদীর সঙ্গে তুলনা করার বিষয় নয়; বরং ভারতীয় ঐতিহ্যকে নতুন পরিবেশে তুলে ধরার একটি সাংস্কৃতিক প্রয়াস।
7
10
প্রবাসী ভারতীয়দের কাছেও এই আয়োজনের আলাদা আবেগ রয়েছে। দেশ থেকে বহু দূরে বসবাস করলেও নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় রীতি এবং শিকড়ের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে এমন অনুষ্ঠান। নতুন প্রজন্মের কাছেও নিজেদের ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
8
10
তবে অনুষ্ঠানে পরিবেশের বিষয়টিও বিশেষভাবে মাথায় রাখা হয়েছিল। আরতিতে ব্যবহৃত কোনও সামগ্রী টেমসের জলে ফেলা হয়নি। অর্থাৎ ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দেওয়া হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।
9
10
বারাণসীতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় গঙ্গার ঘাটে বিশাল আকারে আরতি হয়। ঘণ্টাধ্বনি, শঙ্খ, মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ ও প্রদীপের আলোয় তৈরি হয় অপূর্ব পরিবেশ। হরিদ্বার ও ঋষিকেশেও একইভাবে গঙ্গার উদ্দেশে আরতি করা হয়।
10
10
লন্ডনের টেমসের তীরে সেই ঐতিহ্যের পুরো আবহ তৈরি করা সম্ভব না হলেও, মূল ভাবনাটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। একদিকে ভারতের বহু পুরনো নদী-সংস্কৃতি, অন্যদিকে ব্রিটেনের ঐতিহাসিক টেমস—দুই ভিন্ন ভূগোল যেন এক সন্ধ্যায় মিলেমিশে গেল প্রদীপের আলোয়। আর সেই আলোতেই প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে আরও একবার ফিরে এল দেশের মাটি, নদী, সংস্কৃতি এবং শিকড়ের স্মৃতি।