মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়? নিজের দাহ দেখতে পায় আত্মা? কেন করা হয় শ্রাদ্ধ? বৈতরণী আসলে কী? কী বলছে গরুড় পুরাণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ : ২৮
শেয়ার করুন
1
10
মৃত্যু জীবনের এমন এক সত্য, যার সামনে প্রত্যেক মানুষকেই একদিন দাঁড়াতে হয়। কিন্তু শরীরের মৃত্যু হলেই কি সব শেষ? হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে উত্তরটা একেবারেই অন্যরকম। গরুড় পুরাণে মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা এবং যমলোকে পৌঁছনোর পথ নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
2
10
সেই বর্ণনা অনুযায়ী, শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর আত্মাকে একটি দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এই যাত্রায় রয়েছে নানা বাধা, রয়েছে বৈতরণী নদী পার হওয়ার কথাও।
3
10
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় মানুষের ইন্দ্রিয় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে। শেষ মুহূর্তে তার মধ্যে এক ধরনের বিশেষ উপলব্ধি তৈরি হয়। এরপর শরীর থেকে আত্মার বিচ্ছেদ ঘটে। গরুড় পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সময় যমদূতদের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে। তাঁরা আত্মাকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী যাত্রার দিকে এগিয়ে যান।
4
10
গরুড় পুরাণমতে, মৃত্যুর পর আত্মা কিছু সময়ের জন্য নিজের পরিচিত জায়গায় ফিরে আসে। যে বাড়িতে এতদিন জীবন কাটিয়েছে, সেখানেই নিজের মৃতদেহ ও পরিবারের সদস্যদের দেখতে পায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু তখন আর সেই শরীরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।
5
10
হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে মৃত্যুর পর ১৩ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের আচার পালন করা হয়। এই সময় পিণ্ডদান ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সূক্ষ্ম শরীরকে পরবর্তী যাত্রার জন্য শক্তি দেওয়া হয়।
6
10
এরপর শুরু হয় যমলোকের দিকে আত্মার যাত্রা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পথ একেবারেই সহজ নয়। আত্মাকে বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে এগোতে হয়।
7
10
মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে নামটি শোনা যায়, তা হল বৈতরণী নদী। গরুড় পুরাণে এই নদীকে যমলোকের পথে একটি ভয়ঙ্কর বাধা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনে ভাল কাজ করা এবং পুণ্য অর্জন করা আত্মার জন্য এই নদী পার হওয়ার পথ তুলনামূলক সহজ হয়। অন্যদিকে পাপ কর্মের সঙ্গে যুক্ত আত্মাকে বৈতরণী পার হওয়ার সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বলে মনে করা হয়।
8
10
এই দীর্ঘ যাত্রা শেষে আত্মা যমলোকে পৌঁছয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। সেখানে তার জীবনের কর্মের হিসাব বিবেচনা করা হয়। মানুষ জীবনে কী ভাল কাজ করেছে, কী অন্যায় করেছে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী ফল নির্ধারিত হয় বলে মনে করা হয়।
9
10
এই কারণেই গরুড় পুরাণে বারবার সৎকর্মের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ মৃত্যুর পর মানুষের সঙ্গে তার অর্থ, সম্পত্তি বা পার্থিব পরিচয় কিছুই যায় না, সঙ্গে থাকে শুধু তার কর্ম।
10
10
অবশ্যই, এগুলি হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুরাণের বর্ণনা, এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে জীবন, মৃত্যু এবং মানুষের কর্মের ফল নিয়ে গরুড় পুরাণের এই ভাবনা আজও মানুষের মনে গভীর কৌতূহল তৈরি করে। মৃত্যুর পর কী রয়েছে, সেই অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাই আজও মানুষ ফিরে যায় এই প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের পাতায়।