ব্রিটেনের মাটিতে ভারতীয় রান্নার সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে যে রেস্তোরাঁ গত এক শতাব্দী ধরে, আজ তার অস্তিত্বই সংকটের মুখে। লন্ডনের বিখ্যাত ‘বীরাস্বামী’ রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায়। মালিকপক্ষের সঙ্গে জমির মালিক ‘ক্রাউন এস্টেট’-এর আইনি বিবাদই এর মূল কারণ। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী এই রেস্তোরাঁ বাঁচাতে খোদ রাজা তৃতীয় চার্লসের হস্তক্ষেপ চেয়ে পিটিশন জমা দিয়েছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ।
2
8
১৯২৬ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনা আধিকারিক এডওয়ার্ড পামারের হাতে তৈরি এই রেস্তোরাঁটি কেবল খাবার জায়গা নয়, বরং ইতিহাসের এক দলিল। লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ এক সময় ভারতীয় খাবারকে ইউরোপীয় রাজকীয় খাবারের সমতুল্য করে তুলেছিল।
3
8
২০০৯ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির ব্রিটেন সফর হোক বা ২০১৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর উদযাপন- দু’বার বাকিংহাম প্যালেসে রান্নার ডাক পেয়েছিলেন বীরাস্বামীর কর্মীরা। এমনকী মিশেলিন স্টার পেয়েও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এই রেস্তোরাঁ।
4
8
আসলে যে বাড়িতে রেস্তোরাঁটি অবস্থিত, সেই হেরিটেজ ভবনটিকে আধুনিক করার পরিকল্পনা করেছে মালিক সংস্থা ‘ক্রাউন এস্টেট’। বিবাদের সূত্রপাত সেখানেই। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নতুন নকশায় রেস্তোরাঁর প্রবেশ পথটিই বন্ধ হয়ে যাবে, যা পরোক্ষভাবে তাঁদের উচ্ছেদেরই 'ষড়যন্ত্র'। রেস্তোরাঁর মালিক রঞ্জিত মাথরানি ও নমিতা পাঞ্জাবির দাবি, সমঝোতার কোনও পথই খোলা রাখছে না ল্যান্ডলর্ড পক্ষ।
5
8
বীরাস্বামীকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ গণস্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রেমন্ড ব্লঁ এবং মিশেল রক্সের মতো বিশ্বখ্যাত শেফরা। রাজাকে পাঠানো চিঠিতে তাঁদের আর্জি- “বীরাস্বামী একটি জীবন্ত ইতিহাস। এটি একইসঙ্গে যুদ্ধ এবং বহু পরিবর্তনের সাক্ষী। এই প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করুন।”
6
8
বাকিংহাম প্যালেসের তরফে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে ‘ক্রাউন এস্টেট’-এর অভ্যন্তরীণ বিষয়। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, ক্রাউন এস্টেট একটি স্বাধীন সংস্থা যার লাভের অংশ সরকারি কোষাগারে যায় এবং তাতে রাজার সরাসরি আইনি হাত নেই।
7
8
অন্যদিকে, ল্যান্ডলর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরনো বাড়িটি সংস্কার করা জরুরি। তার বদলে তাঁরা রেস্তোরাঁকে ক্ষতিপূরণ এবং অন্য জায়গা খুঁজে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
8
8
লন্ডনের এই ঐতিহ্যবাহী ঠিকানার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা জানা যাবে আগামী গ্রীষ্মে আদালতের রায়ের পর। ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্বেগের প্রহর গুনছেন বিলেতের ভোজনরসিকরা।