উজ্জয়নের শাহি মসজিদ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকার শহরের রাস্তা চওড়া করার জন্য মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একদিকে ৬০০ বছরেরও বেশি পুরনো হওয়ার দাবি, অন্যদিকে সেই দাবির ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়েই প্রশ্ন। ঠিক কী ঘটছে?
2
11
উজ্জয়নের পুরনো বাজার এলাকার ছত্রী চকে, গোপাল মন্দির রোডের কাছে রয়েছে শাহি মসজিদ। মহাকালেশ্বর মন্দিরের কাছাকাছি এই এলাকা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার জন্য এই অঞ্চলে রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। উজ্জয়নের পুরসভা ১৫ মিটার চওড়া রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। সেই প্রস্তাবিত রাস্তার অংশের মধ্যে শাহি মসজিদের কিছুটা জায়গা পড়ছে।
3
11
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত রাস্তার মধ্যে রয়েছে মসজিদের প্রার্থনাকক্ষের একটি অংশ বা ‘জামাতখানা’। প্রায় ১২০ ফুট উঁচু একটি মিনার এবং রাস্তার দিকের ‘মজহার চৌক শাহি’-র অংশ। এই নিয়েই আদালতে আপত্তি জানিয়েছিল মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলি।
4
11
মসজিদের ইমাম মহম্মদ ইব্রাহিম ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজনের দাবি, শাহি মসজিদ ১৩৯০ সাল থেকেই রয়েছে। সেই হিসাব ধরলে ২০২৬ সালে মসজিদটির বয়স দাঁড়ায় প্রায় ৬৩৬ বছর। তবে এই বয়সের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক বা নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
5
11
পুরনো হওয়ার দাবি থাকলেও মসজিদটি ঠিক কোন সালে তৈরি হয়েছিল, তা কোনও নথিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. শুভম কেভালিয়া ৬৩৬ থেকে ৬৫০ বছরের পুরনো হওয়ার দাবির প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একটি ঐতিহ্য বিষয়ক ডিজিটাল ডেটাবেসেও নির্মাণের সাল ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
6
11
মসজিদটির নামের সঙ্গে ‘শাহি’ শব্দটি জড়িয়ে থাকার পিছনে স্থানীয় ইতিহাসের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। বলা হয়, রাজপরিবারের লোকজন, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন কাফেলা সেখানে জুমার নামাজ ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জড়ো হতেন। সেই থেকেই ‘শাহি’ নামটির প্রচলন বলে উল্লেখ করা হয়।
7
11
মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলি আদালতে দাবি করেছিল, এটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধর্মীয় কার্যকলাপ চলে আসছে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মসজিদের অংশ ভেঙে দিলে ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শাহি মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবেও নথিভুক্ত।
8
11
পুরসভার বক্তব্য, রাস্তা চওড়া করার কাজ বৃহত্তর নগর পরিকল্পনার অংশ। ২০২৮ সালের সিংহস্থে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। তাই যান চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তার জন্য রাস্তা চওড়া করা প্রয়োজন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
9
11
৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ মসজিদের অংশ ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করেছিল। মসজিদ কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখিয়েছে যে, মসজিদে হস্তক্ষেপ না করে কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তার অন্য কোনও দিক বিবেচনা করা অথবা অপর পাশের ভবনগুলি সরিয়ে ফেলা।
10
11
আদালতের মন্তব্য, রাস্তার কাজের ক্ষেত্রে একাধিক ধর্মীয় স্থল নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং পদক্ষেপটিকে শুধুমাত্র একটি মসজিদকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে বলা যায় না। ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিয়ে ফের শুনানির পর পুরসভা ও আবেদনকারীদের মধ্যে সমঝোতার কথা জানিয়ে আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করা হয়।
11
11
সপ্তাহান্তে বিতর্কটি আরও তীব্র হয়, যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা মসজিদে জড়ো হন এবং প্রস্তাবিত ভাঙার বিরোধিতা করতে কেউ কেউ চত্বরের ভেতরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকাটির চারপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এরই মধ্যে মসজিদের একটি অংশ ভাঙার কাজকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা, পাথর ছোড়াছুড়ি ও পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।