ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার পারদ যখন ক্রমশ চড়ছে, তখন এক বিরল প্রকাশ্য বার্তা দিয়ে নজর কেড়েছে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর এই প্রথমবার প্রকাশ্যে ইরানি জনগণের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা দিল সংস্থাটি।
2
8
শনিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, কয়েকদিনের গোপন পরিকল্পনার পর এই অভিযান চালানো হয়। হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান-ইজরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
3
8
এই পরিস্থিতিতেই ইজরায়েলের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল N12 News জানায়, মোসাদ তাদের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে হিব্রু ও ফারসি ভাষায় একটি বার্তা পোস্ট করেছে। সেখানে লেখা হয়, “আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। একসঙ্গে আমরা ইরানকে তার গৌরবের দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। নিজেদের যত্ন নিও।”
4
8
শুধু বার্তাতেই থেমে থাকেনি মোসাদ। জেরুজালেমভিত্তিক সংবাদপত্র The Jerusalem Post-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংস্থাটি ইরানিদের জন্য একটি ফারসি ভাষার বিশেষ টেলিগ্রাম চ্যানেলও চালু করেছে। ওই চ্যানেলের মাধ্যমে হামলা সংক্রান্ত আপডেট ও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
5
8
চ্যানেল উদ্বোধনের ঘোষণায় মোসাদ ইরানিদের “আমাদের ইরানি ভাই-বোন” বলে সম্বোধন করে জানায়, “তোমরা একা নও।” আরও বলা হয়, “আমরা তোমাদের জন্য একটি সুপার সুরক্ষিত ও বিশেষ টেলিগ্রাম চ্যানেল চালু করেছি। একসঙ্গে আমরা ইরানকে তার গৌরবময় দিনে ফিরিয়ে আনব।”
6
8
বার্তায় ইরানের নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন “ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ন্যায্য সংগ্রাম”-এর ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। ইঙ্গিত স্পষ্ট—এই আহ্বান সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনেই-এর নেতৃত্বাধীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধিতার দিকে। তবে একইসঙ্গে মোসাদ জোর দিয়ে বলেছে, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—নিজেদের যত্ন নাও।”
7
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, মনস্তাত্ত্বিক ও তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। ইরানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং সামাজিক প্রতিবাদ চলমান। সেই প্রেক্ষাপটে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি ফারসি ভাষায় বার্তা দেওয়া কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
8
8
তবে এই বার্তার জেরে ইরানের ভেতরে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেহরানের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য আহ্বান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা যখন বাড়ছে, তখন মোসাদের এই বিরল প্রকাশ্য বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।