এবার গরু চরালেই মিলবে কড়কড়ে ১০,০০০ টাকা ভাতা! নতুন 'গ্রাম গোয়ালা যোজনায়' বিপুল নিয়োগ।...
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩ : ৫৪
শেয়ার করুন
1
7
রাজ্যে সদ্য চালু হওয়া ‘গাঁও গোয়ালা যোজনা’ ঘিরে সর্বত্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বহুদিনের গ্রামীণ প্রথাকে প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এনে সংগঠিত রূপ দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক গরু চরানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ করে মাসিক নির্দিষ্ট সম্মানভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
2
7
প্রকল্পটির সূচনা করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার। কোটা জেলার রামগঞ্জ মান্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের চেচাট তহসিলের খেরলি গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি গ্রামে একজন করে গোয়ালা নিয়োগ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত গোয়ালাদের পাগড়ি ও মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়, যা এই ঐতিহ্যবাহী পেশার মর্যাদা নতুন করে প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
3
7
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, একসময় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই গবাদিপশু চরানো ও দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি থাকতেন। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, জীবিকার পরিবর্তন এবং গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতার ফলে সেই প্রথা ক্রমশ লোপ পায়। ‘গাঁও গোয়ালা যোজনা’র মাধ্যমে সেই প্রথাকে পুনরুজ্জীবিত করে সংগঠিত গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
4
7
সরকার নির্দিষ্ট রূপরেখাও ঘোষণা করেছে। প্রতি ৭০টি গরুর জন্য একজন গোয়ালা নিয়োগ করা হবে। গরুর সংখ্যা বাড়লে দুই বা তিনজন পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ থাকবে। প্রত্যেক গোয়ালাকে মাসে ১০,০০০ টাকা করে সম্মানভাতা দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ সরাসরি রাজ্য সরকার বহন করবে না। স্থানীয় মানুষের অনুদান ও দাতব্য সহায়তার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে সম্মানভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এতে গ্রামবাসীর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ হবে।
5
7
তবে প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মদন দিলাওয়ারের একটি মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, গরুর দুধ পান করা শিশুরা বেশি বুদ্ধিমান ও উদ্যমী হয়, আর মহিষের দুধ পানকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি অলস হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিনি বলেন, উঁচু কুঁজওয়ালা দেশীয় গরুর দুধ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
6
7
এই বক্তব্য ঘিরে রাজস্থানের জনমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ঐতিহ্য ও দেশীয় পশুপালন রক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন, আবার অনেকে পুষ্টিবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রশ্ন তুলেছেন।
7
7
সব মিলিয়ে ‘গাঁও গোয়ালা যোজনা’ এখন রাজস্থানের গ্রামীণ অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নীতিনির্ধারণের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।