২০২৬ সালে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল রিটার্ন খুঁজছেন অনেকেই। শেয়ারবাজারের ওঠানামা বা অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে ফিক্সড ডিপোজিট এখনও একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। তবে বিনিয়োগের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিচে তুলে ধরা হল এমন ৫টি বিষয় যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
2
7
সুদের হার ও বাজার পরিস্থিতি বুঝুন: ফিক্সড ডিপোজিটের রিটার্ন সম্পূর্ণ নির্ভর করে সুদের হারের ওপর। ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সুদের হার ওঠানামা করতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হার তুলনা করুন। অনেক সময় সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকের হারের মধ্যে পার্থক্য থাকে। সর্বোচ্চ সুদের লোভে না পড়ে ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতাও বিবেচনায় রাখুন।
3
7
ব্যাংকের নিরাপত্তা ও রেটিং যাচাই করুন: আপনি যে ব্যাংকে FD করছেন, সেটি আর্থিকভাবে কতটা শক্তিশালী তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবুও কোনো ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, গ্রাহক সেবা এবং সুনাম যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে ব্যাংকের রেটিং বা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে নিতে পারেন। নিরাপদ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
4
7
মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করুন: শুধু সুদের হার বেশি হলেই হবে না, সেই হার মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি কিনা সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি মুদ্রাস্ফীতি ৭% হয় আর আপনার FD সুদ ৬% হয়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে আপনি লাভ করছেন না—বরং ক্রয়ক্ষমতা কমছে। তাই বাস্তব রিটার্ন হিসাব করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন। দীর্ঘমেয়াদি FD করার আগে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বিবেচনা করা প্রয়োজন।
5
7
ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে জানুন: ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের ওপর সরকার নির্ধারিত কর প্রযোজ্য হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্দিষ্ট হারে কর কেটে থাকে। এছাড়া আগাম ভাঙালে সুদের হার কমে যেতে পারে। তাই চুক্তির শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিন। ট্যাক্স কেটে নেওয়ার পর আপনার প্রকৃত আয় কত দাঁড়াবে, সেটি আগে থেকেই হিসাব করুন।
6
7
বিনিয়োগের সময়কাল নির্ধারণ করুন: FD একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লক করা থাকে—৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর বা তার বেশি। বিনিয়োগের আগে ভাবুন, এই সময়ের মধ্যে আপনার টাকার প্রয়োজন হবে কিনা। জরুরি প্রয়োজন হলে আগাম ভাঙাতে হলে সুদের ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনার আর্থিক লক্ষ্য—যেমন বাড়ি কেনা, শিক্ষা খরচ বা অবসর পরিকল্পনা—অনুযায়ী সময়কাল নির্বাচন করুন।
7
7
ফিক্সড ডিপোজিট নিরাপদ ও স্থিতিশীল আয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও অন্ধভাবে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি, কর, ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্য—সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই আপনার বিনিয়োগকে করবে আরও নিরাপদ ও লাভজনক।