ইঁদুর তাড়াতে আনা ৫ বেড়ালই হয়ে উঠল ঘাতক, কয়েক দশকে সাবাড় করল লাখ লাখ পাখি!
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ : ৫৬
শেয়ার করুন
1
8
মানুষের নেওয়া একটা ছোট্ট আপাত-নিরীহ সিদ্ধান্ত কীভাবে গোটা একটা দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র উলটপালট করে দিতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে সাব-অ্যান্টার্কটিকার মারিয়ন দ্বীপের ঘটনা। ১৯৪৯ সালের কথা; দ্বীপে তখন ইঁদুরের মারাত্মক উৎপাত।
2
8
জাহাজে চেপে এসে বাসা বাঁধা সেই ইঁদুরদের হাত থেকে নিস্তার পেতে দ্বীপে নিয়ে আসা হয়েছিল মাত্র পাঁচটি বেড়াল। লক্ষ্য ছিল সহজ—বেড়ালেরা ইঁদুর সাবাড় করে দ্বীপকে রক্ষা করবে। কিন্তু প্রকৃতির সমীকরণ যে এত সহজ নয়, তা টের পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
3
8
ওই পাঁচটি বেড়াল মারিয়ন দ্বীপে গিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে করতে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়ংকর রূপ নেয়। ১৯৭০-এর দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দু’হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হল, ইঁদুর ধরার চেয়েও তাদের কাছে সহজ শিকার হয়ে ওঠে দ্বীপের নিরীহ সামুদ্রিক পাখিরা, বিশেষ করে গর্তে বাসা বেঁধে থাকা পেট্রেল প্রজাতির পাখিরা।
4
8
উড়তে গিয়ে বা মাটিতে নেমে এরা বেড়ালের সহজ শিকারে পরিণত হতো। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশকে এই বুনো বেড়ালের দল প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ সামুদ্রিক পাখি মেরে ফেলত। ফলে দ্বীপের পাখি পরিবার এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে।
5
8
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে অবশেষে শুরু হয় বেড়াল নির্মূলের এক দীর্ঘ ও জটিল অভিযান। ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো, ফাঁদ পাতা এবং টানা কয়েক বছর ধরে রাতদিন শিকার অভিযানের পর ১৯৯১ সালে মারিয়ন দ্বীপকে পুরোপুরি বেড়ালমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়। কিন্তু মানুষের ভুলের খেসারত কি সেখানেই শেষ হয়েছিল?
6
8
পরবর্তী সমীক্ষায় দেখা গেল, বেড়াল চলে যাওয়ার পরেও পাখিদের সংখ্যা যেভাবে লাফিয়ে বাড়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। ১৯৭৯ সালের তুলনায় পেট্রেল পাখির বাসার ঘনত্ব বেড়েছে মাত্র ছাপ্পান্ন শতাংশের কাছাকাছি, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।
7
8
কারণ বেড়াল চলে গেলেও যে পুরোনো সমস্যাটা রয়ে গিয়েছিল, তা হল সেই আদি শত্রু ইঁদুরেরা। বেড়ালের অনুপস্থিতিতে এবার ইঁদুরগুলোই পাখির ডিম ও ছানাদের উপর আক্রমণ শুরু করে।
8
8
আজ বিজ্ঞানীদের কাছে মারিয়ন দ্বীপের এই ঘটনা কেবল একটি খবর নয়, জীববৈচিত্র্যে মানুষের অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপের এক চরম শিক্ষা। একটি সমস্যা ঢাকতে গিয়ে আরেকটি প্রজাতিকে ঢুকিয়ে দেওয়ার যে মারাত্মক মাশুল প্রকৃতিকে বছরের পর বছর গুনতে হয়, এ যেন তারই এক জীবন্ত আখ্যান।