ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ভাতার পরিমাণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। যা নিয়ে বাজেটের আগে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষায় রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
2
6
একাধিক প্রকল্পের নামে দেদার ভাতা দেওয়ার প্রবণতায় কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আর্থিক সমীক্ষায়।
3
6
ভারতের আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেদার ভাতা দেওয়ার জেরে রাজ্যগুলির আর্থিক ভারসাম্য দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যার প্রভাব পড়বে উন্নয়মূলক কাজে। উৎপাদনশীল খাতে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বাড়িতে বসে অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসার যে প্রবণতা চলছে, তার জেরে উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে রাজ্যগুলিতে। যার প্রভাব পড়বে আর্থিক বৃদ্ধির হার বা জিডিপি-তে।
4
6
সমীক্ষায় উল্লেখ, রাজ্যগুলির রাজস্বখাতে ব্যয় ক্রমেই একাধিক ভাতা প্রকল্পের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা চলছে, সেই টাকা মূলত রাজ্যগুলির রাজস্ব থেকেই ব্যয় করা হচ্ছে। যার ফলে পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে মূলধনী ব্যয় বাড়ানোর ক্ষমতা রাজ্যগুলির ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এই ধরনের প্রবণতা রীতিমতো আশঙ্কাার।
5
6
আর্থিক সমীক্ষা রপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, শর্তহীন নগদ টাকা সহায়তা প্রকল্পগুলিতে মোট খরচ ২০২৫ - ২৬ আর্থিক বছরে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর মধ্যে বহু প্রকল্পই মহিলাদের জন্য চালু করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রকল্প চালু করা রাজ্যের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সমীক্ষা বলছে, এই রাজ্যগুলির প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। তাই সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে, নগদ টাকা সহায়তা প্রকল্প, সোজা কথায় ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেয় এবং পরিবারের নানা চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রকল্পগুলির দ্রুত বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী মধ্য মেয়াদে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকে।
6
6
যে সব রাজ্য ইতিমধ্যেই আর্থিক ভাবে দুর্বল, তারা যদি এই হারে ভাতা দিতে থাকে, তাহলে বড়সড় আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়বে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনকল্যাণমূলক খরচের বিরোধিতা করছে না। বরং রাজ্যগুলিকে বাজেটের অগ্রাধিকার নতুন করে ঠিক করার পরামর্শ দিচ্ছে।