২০২৫ অর্থবর্ষের সর্বশেষ রিপোর্টে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থায় একাধিক গলদ খুঁজে বার করেছে।
2
15
চলতি মাসের শুরুতে সংসদে পেশ করা রিপোর্টে কেন্দ্রীয় তহবিলের অপব্যবহার এবং ৫৪,০০০ কোটি টাকার খরচের কোনও হিসেব পাওয়া যায়নি। এর ফলে করদাতা টাকার খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
3
15
রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হল, ইতিমধ্যে বিতরণ করা অনুদানের হিসেব দিতে ব্যর্থ হয়েছে ১৫টি মন্ত্রক এবং বিভাগ। ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত, মোট ৫৪,২৮২.৩২ কোটি টাকা মূল্যের ৩৩,৯৭৩টি ইউসি (ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট) বকেয়া রয়েছে।
4
15
যদিও এই বকেয়ার মধ্যে ৩৮,২৮৭.৫২ কোটি টাকা গত তিনটি অর্থবর্ষের (২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪)। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে পুরোনো অনুপস্থিত সার্টিফিকেট ১৯৮৫-৮৬ অর্থবর্ষের।
5
15
এই ক্রমাগত অবহেলা সাধারণ আর্থিক নিয়ম (জিএফআর) ২০১৭-এর ২৩৮ নম্বর বিধি লঙ্ঘন করে। এই বিধি অনুযায়ী, সরকারি তহবিল নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার ১২ মাসের মধ্যে হিসেব দেওয়া বাধ্যতামূলক।
6
15
সিএজি রিপোর্টে মোট ১২,৭৫৪.৪৭ কোটি টাকার তহবিলের খরচের শ্রেণিবিন্যাস ঠিক মতো হয়নি। ২৮,৭৪২.৫৬ কোটি টাকা ভুলভাবে ব্যয় হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যার প্রধান কারণ ছিল মন্ত্রণাকগুলির ভুল ক্ষেত্র ব্যবহার করা।
7
15
উদাহরণস্বরূপ, দেখা গিয়েছে যে পরমাণু শক্তি বিভাগ পরিচালন রাজস্ব ব্যয় হিসাবে ৩,০৮৯.৯৭ কোটি টাকা খরচ করেছে, কিন্তু সেগুলিকে মূলধনী প্রধান খাতের অধীনে নথিভুক্ত করেছে, যা সিএজি-র মতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ একটি পদক্ষেপ।
8
15
৪,০১১.৯১ কোটি টাকার হিসেবে আরও অনিয়ম লক্ষ করা গিয়েছে। যেখানে সিবিডিটি এবং সিবিআইসি কর্তৃক কর নয় এমন রাজস্বকে ভুলভাবে কর রাজস্ব হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল। সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে যে, এই ধরনের ত্রুটি সরকারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার একটি বিকৃত চিত্র তুলে ধরে।
9
15
রিপোর্টে ‘মাইনর হেড ৮০০’ (অন্যান্য প্রাপ্তি/ব্যয়) নামক সর্বজনীন খাতটির ওপর সরকারের ক্রমাগত নির্ভরতার সমালোচনা করা হয়েছে। এটিকে অন্যান্য বিষয়ের জন্য তৈরি করা হলেও একটি বুকিং ক্যাটাগরিতে পরিণত হয়েছে।
10
15
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে, তিনটি প্রধান খাতে ব্যয়ের ৫০ শতাংশের বেশি (মোট ৪,৯৫৭.৫৮ কোটি টাকা) এবং ছ’টি প্রধান খাতে প্রাপ্তির ৫০ শতাংশের বেশি (মোট ৪,০৮৭.৪৩ কোটি টাকা) এই ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা কেন্দ্রের হিসেবের স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
11
15
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, সরকার চলতি বছরে চারটি নির্দিষ্ট সংরক্ষিত তহবিলে সংগৃহীত লেভি ও সেস বাবদ ১৯,২২২ কোটি টাকা কম স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে শিক্ষার জন্য প্রারম্ভিক শিক্ষা কোষ (পিএসকে) এবং স্বাস্থ্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিধি (পিএমএসএসএন)-এর ঘাটতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
12
15
এছাড়াও, রিপোর্টে বিভিন্ন তহবিল খাতে ৫৬টি প্রতিকূল ব্যালেন্সের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। যা থেকে আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট। বিদেশ মন্ত্রকের অধীনে ৪৪,৭১৪.৭৭ কোটির একটি বড় প্রতিকূল ব্যালেন্স দেখা গিয়েছে। যা মন্ত্রক পরবর্তীতে একটি ‘ভুল স্থানান্তর এন্ট্রি’-র কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে।
13
15
সিএজি উল্লেখ করেছে যে সাসপেন্স হেডস (যেটি তাৎক্ষণিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় না এমন লেনদেনগুলির হিসাব রাখে) ‘নেট’ করা হচ্ছিল। যার ফলে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকা প্রকৃত ব্যালেন্স কম করে দেখানো হচ্ছিল।
14
15
উদাহরণস্বরূপ, সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট (সিভিল)-এর পরিমাণ ৭৬.৬১ শতাংশ কম দেখানো হয়েছিল। এছাড়াও, সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মোট ৩,৮৮০.৬৭ কোটি টাকার নগদ ব্যালেন্স মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে।
15
15
সিএজি অর্থ মন্ত্রককে হিসাবরক্ষণ নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করে এবং পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (পিএফএমএস)-এর অধীনে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল মডিউল স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছে।