ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের কাছে রাতের এই যুদ্ধ যেন রোজকার রুটিন হয়ে গিয়েছে৷ তন্দ্রা আসতে আসতেও আসছে না এদিকে মাথায় আগামীদিনের কাজ, পরিকল্পনা সব জট পাকিয়ে চলেছে৷
3
11
কিন্তু কেন এমন হয়? অনিদ্রায় ভুগতে থাকা মানুষ এবং যাঁদের ঘুমের কোনও সমস্যা নেই- দুই ধরনের মানুষকে ২৪ ঘণ্টা একটা নির্দিষ্ট পরিবেশে রেখে গবেষণা করা হয়েছে৷
4
11
গবেষণায় উঠে এসেছে এক অবাক করা তথ্য। কিছু মস্তিষ্ক রাতে 'সুইচ অফ' করতে পারে না৷ অর্থাৎ তার ভাবনা চিন্তা চলতেই থাকে৷ চেষ্টা করলেও আবেগ এবং বৌদ্ধিক ভাবনা থেকে মুক্ত হতে পারে না৷
5
11
অনিদ্রা মানে কেবল ঘুমের অভাব হওয়া নয়৷ যখন মাথার বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন তখনও যদি মাথা সজাগ থাকে তাহলে সেটাও অনিদ্রার সমস্যাকেই নির্দেশ করে৷
6
11
মাথার একটা ২৪ ঘণ্টার ছন্দ আছে৷ মানব মস্তিষ্ক একটা সার্কাডিয়ান ছন্দে চলে। দিনের বেলা সজাগ থাকে এবং রাতে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়৷ মাথার মধ্যে এই ছন্দটা কেমন থাকবে তা নির্ভর করে মানবমনের আবেগ, ভাবনাচিন্তার গতিবিধি আর মানসিক অবস্থার উপর৷
7
11
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ জেনেরাল মেডিসিন সায়েন্সেস (NIGMS) মানবমস্তিষ্কের আভ্যন্তরীণ ছন্দ কীভাবে ঘুম আর মস্তিষ্কের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত তা ব্যাখ্যা করেছেন৷
8
11
তাঁদের ব্যাখ্যা, যাঁদের ঘুম নিয়মিত সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে হয়, তাঁদের মানসিক বৌদ্ধিক কাজকর্ম দুপুরবেলা সর্বোচ্চ থাকে এবং ভোরবেলা সর্বনিম্ন থাকে৷
9
11
ভাবনাচিন্তার এই গ্রাফ যে দিনের বিভিন্ন সময় ওঠানামা করে, তা মস্তিষ্ককে লক্ষ্য নির্ধারিত ভাবনাচিন্তা থেকে নিবৃত হতে সাহায্য করে৷ কিন্তু যাদের অনিদ্রা আছে তাঁদের সারাদিন সারারাত ভাবনাচিন্তার এই গ্রাফ সরলরেখায় থাকে৷
10
11
গবেষণায় দেখা গেছে অনিদ্রায় ভুগতে থাকা মানুষদের ভাবনাচিন্তায় বৈচিত্র্য কম থাকে৷ তাঁদের মস্তিষ্ক রাতেও ভাবনার জাল থেকে বেরোতে পারে না৷ বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলে 'কগনিটিভ-অ্যাফেকটিভ ডিসএনগেজমেন্ট'।
11
11
এই অবস্থায় মস্তিষ্ক বৌদ্ধিক এবং মানসিক কোনরকম ভাবনাচিন্তার ঢেউকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না৷