ক্রিকেট খেলার জন্য একসময় বাবার হাতে মার খেয়েছেন রিংকু সিং। একবার এক স্কুল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন রিঙ্কু। মোটরবাইক পেয়েছিলেন পুরস্কার। তাঁর বাবা ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন। সেই ফাইনাল দেখার পরে আর কোনও দিন রিঙ্কুর গায়ে হাত তোলেননি বাবা।
2
8
রিঙ্কুকে ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন বাবা খানচাঁদ সিং। ছেলের সাফল্য তিনি দেখে যেতে পেরেছেন। ছেলে বিশ্বকাপ খেলছে অথচ তাঁর বাবা প্রয়াত।
3
8
রিংকু ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পুরোনো বাড়ি ছেড়েছেন। বিলাসবহুল তিনতলা এক বাড়িতে উঠেছেন। কিন্তু খানচাঁদ সিং থেকে গিয়েছিলেন সেই পুরোনো বাড়িতেই। রিংকু বহুবার তাঁর বাবাকে নতুন বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন। কিন্তু খানচাঁদ ব্যাখ্যা দেন, ''আমি যদি এই চাকরি ছেড়ে দিই, তাহলে কী করব? আমি তো অযোগ্য হয়ে পড়ব। এখন আমাদের সার্মথ্য হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমরা আমাদের শিকড় ভুলি কী করে?''
4
8
রিঙ্কুর বাবা খানচাঁদ সিং মারা গিয়েছেন ক্যানসারে। বাবার মৃত্য়ুর খবর পেয়ে বিশ্বকাপের মধ্যেই তিনি ছুটে গিয়েছেন বাবার কাছে।
5
8
খানচাঁদ জীবনভর লড়ে গিয়েছেন। গ্রেটার নয়ডার এক হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ২১ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খানচাঁদকে। পরে তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু ক্যানসারের কাছে হার মানেন খানচাঁদ।
6
8
বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল ছেড়ে বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। জিম্বাবোয়ে-ভারত ম্যাচের আগে দলে ফিরলেও প্রথম একাদশে ছিলেন না। বদলি ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিং করেন। বাবার মৃত্য়ুর খবর পেয়ে ফিরে যান আলিগড়ে।
7
8
গত বছর খানচাঁদ সিংকে দামি একটি স্পোর্টস বাইক উপহার দিয়েছিলেন রিঙ্কু। খানচাঁদ আবেগে ভেসে বলেছিলেন, ''আগে, গ্যাস এজেন্সিতে আমার বস আমাকে অপমান করতেন, কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করতেন এবং আমাকে অন্য শ্রমিকের মতোই দেখতেন। এখন তিনি আমার সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাহেব বলে সম্বোধন করেন।''
8
8
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কলকাতায় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন রিঙ্কু। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়েছে, ‘কলকাতায় শনিবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন রিঙ্কু।’