অনলাইন খাবার অর্ডার করা ধীরে ধীরে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি সংস্থা সুইগি সম্প্রতি তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়ে প্রায় ১৭.৫৮ টাকা করেছে, যা এসেছে জোমাটোর একই ধরনের পদক্ষেপের পরপরই। ফলে প্রতিবার খাবার অর্ডার করার সময় গ্রাহকদের পকেট থেকে আরও বেশি টাকা বেরোবে।
2
8
প্ল্যাটফর্ম ফি হল সেই অতিরিক্ত চার্জ, যা অর্ডারের মূল দাম, ডেলিভারি চার্জ, ট্যাক্স ইত্যাদির পাশাপাশি আলাদা করে নেওয়া হয়। আগে এই ফি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়েছে। এখন এই বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ গ্রাহকদের উপর, বিশেষ করে যারা নিয়মিত অনলাইন খাবার অর্ডার করেন।
3
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফি বাড়ানোর পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধি। ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বজায় রাখা, ডেলিভারি পার্টনারদের পারিশ্রমিক, প্রযুক্তিগত কাঠামো—সবকিছুর খরচই বেড়েছে। এই বাড়তি খরচ সামাল দিতেই সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়াচ্ছে।
4
8
দ্বিতীয়ত, লাভজনকতা অর্জনের চাপ। দীর্ঘদিন ধরে ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলি বড় ডিসকাউন্ট ও অফারের মাধ্যমে গ্রাহক টানার চেষ্টা করেছে, যার ফলে তাদের লাভের পরিমাণ কম ছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের চাপ ও বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় এনে তারা ধীরে ধীরে মুনাফার দিকে ঝুঁকছে। সেই কৌশলেরই অংশ এই ফি বৃদ্ধি।
5
8
তৃতীয়ত, প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য। যখন একটি বড় সংস্থা ফি বাড়ায়, তখন অন্য সংস্থাও প্রায় একই পথে হাঁটে, যাতে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় থাকে। জোমাটোর পর সুইগির এই পদক্ষেপ সেই প্রবণতারই প্রতিফলন।
6
8
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য খাবার অর্ডারের মোট বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ধরুন, ৩০০-৪০০ টাকার অর্ডারের ক্ষেত্রেও এখন অতিরিক্ত ফি, ডেলিভারি চার্জ ও ট্যাক্স মিলিয়ে মোট খরচ অনেকটাই বাড়ছে। ফলে অনেকেই এখন ভাবছেন, বাইরে থেকে অর্ডার না করে বাড়িতেই রান্না করা কি বেশি সাশ্রয়ী হবে।
7
8
তবে সংস্থাগুলির দাবি, তারা এখনও গ্রাহকদের জন্য নানা অফার, সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান এবং ডিসকাউন্ট দিচ্ছে, যা মোট খরচ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ফি বাড়ার ফলে সেই সাশ্রয়ের বড় অংশটাই মুছে যাচ্ছে।
8
8
সব মিলিয়ে, অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবা ধীরে ধীরে “কনভিনিয়েন্স” থেকে “প্রিমিয়াম সার্ভিস”-এর দিকে এগোচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন খরচে। ভবিষ্যতে এই ফি আরও বাড়বে কি না, সেটাই এখন দেখার।