বিবাহ বন্ধন ছাড়া যদি কোনও নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছায় একসঙ্গে বসবাস (লিভ-ইন) করেন, তবে সেই লিভ-ইন রিলেশনশিপ থেকে কোনও একজনের বেরিয়ে যাওয়াকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের সুপ্রিম কোর্ট । আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই এমন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু স্বাভাবিক ঝুঁকিও থাকে।
2
7
মামলাকারী এক মহিলা তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং শোষণের অভিযোগ এনেছিলেন। ওই মহিলার দাবি ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছিলেন কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এমনকি লিভ-ইন চলাকালীন তাঁদের একটি সন্তানও হয়।
3
7
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম বিচারপতি নাগারত্না প্রশ্ন তোলেন, “এটি একটি লিভ-ইন রিলেশনশিপ ছিল। বিয়ের আগেই ওই মহিলা ওই ব্যক্তির সঙ্গে সন্তান ধারণ করেছিলেন। আর এখন তিনি ধর্ষণ ও লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলছেন। এটা কি ঠিক?”
4
7
বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির সম্মতিক্রমে গড়ে ওঠা একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক কীভাবে পরবর্তীকালে যৌন হেনস্থার অভিযোগে পর্যবসিত হতে পারে?
5
7
পর্যবেক্ষণে দেশের শীর্ষ আদালত জানায় যে, বৈবাহিক বন্ধনের অনুপস্থিতিতে যখন দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ স্বেচ্ছায় একত্রে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেই সম্পর্কের অনিশ্চয়তা বা পরিণতির দায়ও তাঁদের ওপর বর্তায়। সম্মতিক্রমে গড়ে ওঠা লিভ-ইন সম্পর্ক এবং অপরাধমূলক যৌন হেনস্থার মধ্যে এক সূক্ষ্ম কিন্তু স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। স্রেফ সম্পর্ক বিচ্ছেদ বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেই তাকে সবসময় ‘ধর্ষণ’ বা ‘অপরাধে’র তকমা দেওয়া যায় না।
6
7
আদালত ওই মহিলার প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করে এবং জানায় যে, তিনি তাঁর সন্তানের ভরণপোষণ বা খোরপোশ দাবি করতে পারেন। বিচারপতি নাগারত্না আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও আইনি রক্ষক বা বিয়ের মতো সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে না। ফলে এই ধরনের সম্পর্কে ভাঙন বা কারও ছেড়ে চলে যাওয়াকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা আইনত কঠিন।
7
7
তবে আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দেয় যে, একটি লিভ-ইন সম্পর্কের বিচ্ছেদ বা সমাপ্তি কোনোভাবেই একটি ফৌজদারি অপরাধের ভিত্তি হতে পারে না। "অবৈধ সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু (এমন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া) সন্তান অবৈধ হতে পারে না। যদি বিবাহ সম্পন্ন হতো, তবে তার অধিকার আরও সুদৃঢ় হতো," বিচারক মন্তব্য করেন।