২০২৬ সালের গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী বা “সুপার” এল নিনো ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে, যা আগামী কয়েক মাসে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে।
2
10
এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। সাধারণত এটি প্রতি কয়েক বছর অন্তর দেখা যায়, তবে “সুপার এল নিনো” তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর প্রভাবও অনেক গভীর।
3
10
১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের মতো অতীতের সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
4
10
২০২৬ সালের সম্ভাব্য সুপার এল নিনো ভারতের আবহাওয়ার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল আরও উষ্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা-সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও আর্দ্র গরম বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
5
10
একই সঙ্গে বর্ষার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত এল নিনোর বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ধান, ডাল ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্যের দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
6
10
তবে সব প্রভাব নেতিবাচক নয়। কিছু অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতও দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে একদিকে যেমন খরা, অন্যদিকে বন্যা—এই দ্বৈত পরিস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
7
10
বিশ্বের অন্যান্য অংশেও এর প্রভাব পড়বে। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে। কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি—এই বৈপরীত্যই সুপার এল নিনোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
8
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এল নিনো যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বেশি থাকায় এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম বিশ্বব্যাপী রেকর্ড গরমের সাক্ষীও হতে পারে।
9
10
এই পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত জলপান, তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ—এইসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে, সুপার এল নিনোর সম্ভাবনা ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকে একটি চ্যালেঞ্জিং মৌসুমে পরিণত করতে পারে। এখন নজর রাখতে হবে এর বিকাশের গতিপ্রকৃতির ওপর এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।