১৫০ বছর আগে মারা গিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, ২০২৬ সালে সেই ‘সুপার এল নিনো’য় পুড়বে গোটা ভারত?
২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ : ১১
- 1
- 16
তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ১৮৭৭-৭৮ সালের জলবায়ুঘটিত ভয়াবহ ‘মেগা এল নিনো’ বা ‘সুপার এল নিনো’-র আশঙ্কা ঘনিয়ে আসছে। প্রায় ১৫০ বছর আগে কী ঘটেছিল? ‘সুপার এল নিনো’ কী ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে? ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
- 2
- 16
এল নিনো এবং লা নিনা হল এল নিনো-সাদার্ন অসিলেশন (ENSO)-এর দু'টি বিপরীত পর্যায়, যা পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু প্যাটার্ন। এই ঘটনাগুলি বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এবং মহাদেশজুড়ে বৃষ্টিপাত, খরা পরিস্থিতি ও চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলিকে নতুন রূপ দেয়।
- 3
- 16
প্রশান্ত মহাসাগর নিয়ে গবেষণা করছেন এমন গবেষকদের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা এল নিনো তৈরি হওয়ার একটি প্রধান কারণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে একটি ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।
- 4
- 16
প্রায় ১৫০ বছর আগে, ‘সুপার এল নিনো’র কারণে বিশ্বের অনেকাংশে চরম তাপপ্রবাহ, দীর্ঘ খরা এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ অর্থাৎ, লক্ষ লক্ষ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
- 5
- 16
মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠলে এল নিনো ঘটে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে যায়, মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত ব্যাহত হয়। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমাজন অববাহিকা খরা ও চরম তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে পারে। অন্যদিকে, আমেরিকার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা হতে পারে।
- 6
- 16
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-র প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ সমীক্ষায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালের মে-জুলাই মাসের মধ্যেই এল নিনো পরিস্থিতি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
- 7
- 16
এটি ভারতের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ এটি বর্ষা এবং অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। দেশের কৃষি, জলসম্পদ এবং অর্থনীতি বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬ সালে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা কৃষিকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
- 8
- 16
দুর্বল বর্ষার কারণে ফলন কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে। কম বৃষ্টির কারণে জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যাওয়ায় জলের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। ক্রমাগত তাপ বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা বাড়ছে এবং এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
- 9
- 16
মৌসম ভবন (আইএমডি)-র প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুসারে, এই বছর বর্ষা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের লবণের মাত্রার পরিবর্তন এই ঝুঁকি আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- 10
- 16
বিজ্ঞানীরা বলছেন, একে ‘মেগা এল নিনো’ বলার সময় এখনও আসেনি, তবে লক্ষণগুলি এতটাই জোরালো যে এখনই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। এই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার একমাত্র উপায় হল উন্নত জল ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা এবং কৃষকদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- 11
- 16
১৮৭৭ সালের পরিস্থিতি অনেকটা এরকমই ছিল। সমুদ্রের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এর ফলে গোটা বিশ্বকে ভুগতে হয়। ১৮৭৭-৭৮ সালের এল নিনো ছিল বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক জলবায়ু ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম। যার ফলে বিশ্বের প্রায় ৪ শতাংশ মানুষ মারা গিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার ফলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং ব্যাপক ফসল নষ্ট হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের অনেক অংশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
- 12
- 16
জলবায়ু গবেষকরা ২০২৬ সালে একটি সম্ভাব্য ‘মেগা’ বা ‘সুপার’ এল নিনোর লক্ষণের দিকে নজর রাখছেন। যা ঊনবিংশ শতাব্দীর সেই বিপর্যয়ের তীব্রতার সমতুল্য হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৮৭৭-৭৮ সালের সেই ঘটনার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ তাপমাত্রা।
- 13
- 16
এই ঘটনা বিশ্বের আবহাওয়াকে ব্যাহত করেছিল। মৌসুমী বায়ুর ধরনকে দুর্বল করে দিয়েছিল। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। এর ফলে সুপার এল নিনো বা মেগা এল নিনোর আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 14
- 16
২০২৬ সালের এল নিনোর পূর্বাভাস ভারতের মৌসুমি বায়ুর জন্য গুরুতর আশঙ্কার। এটি প্রধানত আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা বয়ে আনা বায়ুপ্রবাহকে দুর্বল করে দেয়। এই ধরনের ঘটনা অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে এবং শক্তিশালী এল নিনোর সময় দেশের কোনও না কোনও অংশে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত খরার সম্ভাবনা থাকে।
- 15
- 16
দুর্বল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। যা কৃষিক্ষেত্রের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে এবং জল সঙ্কট তৈরি করতে পারে।
- 16
- 16














