মধ্য এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত সামনে এসেছে। ইরান জানিয়েছে, তারা জাপানের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে প্রস্তুত। যদিও বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োদো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই তথ্য জানিয়েছেন।
2
9
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে, যা অনেক বিশেষজ্ঞই “দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট” বলে অভিহিত করছেন।
3
9
ইরান দাবি করেছে, তারা সম্পূর্ণভাবে প্রণালী বন্ধ করেনি—তবে আমেরিকা এবং তার মিত্রদের জন্য এই পথ কার্যত নিষিদ্ধ। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১৫ দিনে মাত্র প্রায় ৯০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে গিয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। প্রতিটি জাহাজকে আলাদা করে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
4
9
এই পরিস্থিতিতে কিছু দেশ আংশিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে। যেমন, ভারতের পতাকাবাহী কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রণালী পার হয়েছে। আরও কিছু ভারতীয় জাহাজ পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে আটকে থাকা জাহাজগুলির চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
5
9
একইভাবে, পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে ১৫ মার্চ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে চীনের জাহাজগুলির ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে শিথিল মনোভাব দেখা যাচ্ছে। বহু চীনা জাহাজকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
6
9
তুরস্কও এই সুবিধা পেয়েছে। তুরস্কের একাধিক জাহাজের মধ্যে অন্তত একটি ইতিমধ্যেই ইরানের অনুমতি নিয়ে প্রণালী পার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের পরিবহনমন্ত্রী।
7
9
অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলিও পিছিয়ে নেই। ফ্রান্স এবং ইতালি ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে তাদের জাহাজগুলিও নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট ব্যবহার করতে পারে।
8
9
এই প্রেক্ষাপটে জাপানের জন্য সম্ভাব্য ছাড় একটি বড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও কোনও জাপানি জাহাজ এই পথ দিয়ে যায়নি, তবে আলোচনার অগ্রগতি বিশ্ববাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়—এটি হয়ে উঠেছে রাজনীতি, কূটনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং ইরানের সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে বিশ্বের তেলের বাজার ও অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।