মধ্য এশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান নাকি এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল বসানোর পরিকল্পনা করছে এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দিচ্ছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এমন পদক্ষেপ বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
2
9
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করার শর্ত হিসেবে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে। যদি এই দাবি কার্যকর হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
3
9
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে এর অবস্থান কী? সমুদ্র আইন সনদ, যা ১৯৮২ সালে গৃহীত এবং ১৯৯৪ সালে কার্যকর হয়, এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। আনক্লসের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রান্সজিট প্যাসেজ বা অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দেশ এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে বা বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
4
9
তবে এই আইনে এটাও বলা আছে যে, প্রণালীর পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাদের আঞ্চলিক জলসীমা পর্যন্ত কিছু নিয়ম আরোপ করতে পারে। কিন্তু সেই নিয়মের মধ্যেও যাতায়াতের অধিকার বজায় রাখতে হবে।
5
9
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রায় ১৭০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বাক্ষর করলেও ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন এখন অনেকটাই আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইনে পরিণত হয়েছে, যা সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য বলে ধরা হয়।
6
9
ইরান দাবি করতে পারে যে তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই চুক্তির কিছু ধারার বিরোধিতা করে আসছে, তাই তারা বাধ্য নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তি মানতে নারাজ এবং টোল আদায়ের অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করছে।
7
9
আইনি দিক থেকে আনক্লজ বাস্তবায়নের জন্য কোনো শক্তিশালী প্রয়োগকারী সংস্থা নেই। ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইবুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি রায় দিতে পারে, কিন্তু তা কার্যকর করার ক্ষমতা তাদের নেই।
8
9
তাই বাস্তবে, দেশগুলোকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়েই এই ধরনের পদক্ষেপের মোকাবিলা করতে হয়। কোনও দেশ বা একাধিক দেশের জোট প্রয়োজনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে পারে। এছাড়া ইউনাইটেড নেশন সিকিউরিটি কাউন্সিল এই বিষয়ে প্রস্তাব পাশ করে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্বের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।