দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ল ৫২ ফুটের একটি ইয়ট। স্পার্ম তিমির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডুবে গেল ‘Tai Tam’ নামের ১৬ মিটার দীর্ঘ ইয়টটি। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে ছিলেন চার জন নাবিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল সেচে এবং ক্ষতি মেরামতের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে লাইফ র্যাফটে উঠতে বাধ্য হন তাঁরা।
2
9
AFP-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নরফোক দ্বীপের প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ইয়টটি যাত্রা করছিল। শনিবার সেখানে একদল স্পার্ম তিমির মুখোমুখি হয় সেটি।
3
9
ইয়টের স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন অস্ট্রেলীয় নাবিক জেম্মা কুপার। হঠাৎ তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান এবং অনুভব করেন, গোটা নৌকাটি যেন পাশের দিকে ধাক্কা খেয়ে সরে যাচ্ছে।
4
9
প্রথমে কী ঘটেছে বুঝতে পারেননি নাবিকরা। পরে ইয়টের বাম দিকে তাকিয়ে তাঁরা বাদামি রঙের জল এবং কাছাকাছি ছয় থেকে আটটি স্পার্ম তিমিকে দেখতে পান। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, তিমির ধাক্কাতেই এই বিপত্তি।
5
9
সংঘর্ষের জেরে ইয়টের স্টিয়ারিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি, হালের একাধিক জায়গায় ফাটল তৈরি হয়ে জল ঢুকতে শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিট পর, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায়, নাবিকরা জরুরি বিপদসংকেত পাঠান এবং Mayday কল করেন।
6
9
এরপর শুরু হয় বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। হাতে করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইয়ট থেকে জল বের করতে থাকেন তাঁরা। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ফরাসি নাবিক মার্টিন জ্যাফ্রে জানান, ধাক্কায় হালে একাধিক ক্ষত তৈরি হয়েছিল এবং ফাইবারগ্লাসের কাঠামোর কিছু অংশেও ফাটল ধরেছিল।
7
9
জল ঢোকা কমাতে তাঁরা বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেন। এমনকী ক্ষয়ক্ষতি দেখতে জ্যাফ্রে নিজেই জলের নীচে নেমেছিলেন।
8
9
উদ্ধার অভিযানে একটি টহল বিমান পাঠানো হয়। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাতে নাবিকরা লাইফ র্যাফটে চলে যান। পরে ডুবে যাওয়া ইয়টটি তাঁদের টেনে নিয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় ‘Tai Tam’-এর সঙ্গে র্যাফটের সংযোগও কেটে দেন তাঁরা।
9
9
এই ঘটনা স্পার্ম তিমির বিশাল মাথার শক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তিমিটির কপালে থাকা বৃহৎ spermaceti organ-এর কারণে মাথার সামনের অংশ অত্যন্ত ভারী ও শক্তিশালী। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বড় আকারের স্পার্ম তিমি প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে গবেষকদের মতে, নৌকায় ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং তিমিরা সাধারণত ইচ্ছাকৃতভাবে নৌযান আক্রমণ করে—এমন প্রমাণ নেই।