৬২ বছরেও এত ফিট নীতা আম্বানি! জানেন সুস্থ থাকতে কী করেন মুকেশপত্নী?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ : ৫৩
শেয়ার করুন
1
12
বয়স ৬২। ধনকুবেরের পত্নী৷ ব্যবসার হাজার কাজের দায়িত্ব, ঘরে বাইরে ব্যস্ততার মাঝেও শরীরচর্চা করতে ভোলেন না মুকেশ আম্বানির পত্নী নীতা আম্বানি।
2
12
শুধু রোগা বা ছিপছিপে থাকাই তাঁর ফিটনেসের লক্ষ্য নয়। বরং শরীরকে শক্তিশালী রাখা, নমনীয়তা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন জীবনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
3
12
নীতা আম্বানির ফিটনেস রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিয়মিত শরীরচর্চা। তিনি সপ্তাহে প্রায় পাঁচ থেকে ছ’দিন ওয়ার্কআউট করেন। তবে প্রতিদিন একই ধরনের ব্যায়াম করেন না। শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা দিনে আলাদা ধরনের এক্সারসাইজ করেন। লেগ, আপার বডি, ব্যাক, কোর—সবকিছুকেই গুরুত্ব দেন।
4
12
তাঁর ওয়ার্কআউটের মধ্যে রয়েছে স্ট্রেংথ ট্রেনিং, যোগাসন, মোবিলিটি ও ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ। পাশাপাশি কোর বা পেটের পেশি শক্ত করার জন্যও নিয়মিত ব্যায়াম করেন তিনি। কোনও কোনও দিন রুটিনে যোগ হয় সাঁতার এবং অ্যাকোয়া এক্সারসাইজও।
5
12
আর এই পুরো রুটিনে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ‘লেগ ডে’। ছোটবেলা থেকেই ভরতনাট্যমের সঙ্গে যুক্ত নীতা। মাত্র ছ’বছর বয়স থেকে তিনি এই শাস্ত্রীয় নৃত্য শিখছেন। তাঁর মতে, নৃত্যের দীর্ঘ অনুশীলন তাঁর পায়ের শক্তি ও শরীরের নিয়ন্ত্রণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
6
12
নীতা আম্বানির ফিটনেস রুটিনে শুধু স্ট্রেংথ ট্রেনিং নেই। রয়েছে যোগাসন, ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ, কোর স্ট্রেংথেনিংও। কখনও তিনি সাঁতার কাটেন, আবার কখনও করেন অ্যাকোয়া এক্সারসাইজ। অর্থাৎ একই ধরনের ব্যায়ামে আটকে না থেকে শরীরের শক্তি, নমনীয়তা ও স্ট্যামিনা—তিনটিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দেন তিনি।
7
12
নাচও তাঁর ফিটনেস রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দিনে প্রায় এক ঘণ্টা নাচ করেন তিনি। ভরতনাট্যমের দীর্ঘদিনের অভ্যাসের পাশাপাশি নাচকে তিনি শরীরচর্চার আনন্দদায়ক মাধ্যম হিসেবেও দেখেন।
8
12
জিমে ওয়ার্কআউট করার পাশাপাশি দিনের অন্যান্য সময়েও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন নীতা। প্রতিদিন প্রায় ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ স্টেপ হাঁটার লক্ষ্য রাখেন তিনি।
9
12
শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সচেতন নীতা অম্বানী। তিনি নিরামিষাশী, তাঁর খাবারে অর্গানিক ও প্রাকৃতিক উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন নেওয়ার উপরেও জোর দেন তিনি।
10
12
শুধু চিনি নয়, চিনির বিকল্প বা সুগার সাবস্টিটিউটও তিনি এড়িয়ে চলেন বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ মিষ্টি খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ তাঁর খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।নীতা অম্বানীর কাছে শরীরচর্চার অর্থ শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়। তাঁর মতে, নিয়মিত ব্যায়াম তাঁকে মানসিক ভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করে। শরীরচর্চার ফলে এন্ডোরফিন নিঃসরণ হয়, যা স্ট্রেস কমাতে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকী নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানো বা তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যও শরীরকে সক্রিয় রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
11
12
বয়সকে মেনে নিয়ে সেই বয়স অনুযায়ী শরীর ও মনকে শক্তিশালী রাখাই তাঁর লক্ষ্য। নিজের ফিটনেস জার্নি শুরু করতে চাইলে প্রথম দিন থেকেই কঠিন ওয়ার্কআউট করার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন নীতা। তাঁর পরামর্শ, দিনে মাত্র ৩০ মিনিট, সপ্তাহে চার দিন নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য সময় বের করেও ফিটনেসের যাত্রা শুরু করা সম্ভব।
12
12
৬২ বছর বয়সে নীতা অম্বানীর রুটিন তাই কোনও ‘ম্যাজিক ডায়েট’ বা একদিনে বদলে যাওয়ার গল্প নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, নাচ, হাঁটা, সুষম নিরামিষ খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং চিনি এড়িয়ে চলা—দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা এই অভ্যাসগুলিই তাঁর ফিটনেসের মূল ভিত্তি।