ছ'গোলের ঝড়ে নভি মুম্বই কাঁপাল ইউনাইটেড কলকাতা, বাঘিনীদের গর্জনে আরও একবার মুখর ফুটবলের ময়দান

২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২০ : ৫২
- 1
- 15
ফুটবল মানে শুধু গোলের হিসাব নয়, ফুটবল মানে স্বপ্নের পিছু ধাওয়া করা, প্রতিকূলতার বুক চিরে এগিয়ে যাওয়া, বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে আক্রমণের ভাষা খুঁজে নেওয়া। বুধবার নভি মুম্বইয়ের মাঠে সেই লড়াইয়েরই এক অনন্য ছবি আঁকল ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ, গোলের সামনে একের পর এক বাধা আর সুযোগ নষ্টের হতাশা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ছয় গোলের জয় ছিনিয়ে নিল ইউনাইটেড কলকাতা। এলএক্সএমই ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ ২-তে স্পোর্টস অথরিটি অফ গুজরাট ফুটবল অ্যাকাডেমিকে ০-৬ গোলে হারিয়ে নিজেদের দাপট আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল তারা।
- 2
- 15
অধিনায়ক বালা দেবীর জোড়া গোল, নীতু লিন্ডার নিখুঁত হেড, কমলা দেবীর দূরপাল্লার শট, কাই রুমির দুরন্ত হেডার এবং সোনিয়া মারাকের উপস্থিত বুদ্ধি, সব মিলিয়ে এ যেন গোলের ক্যানভাসে আঁকা কলকাতার জয়গাথা। ছয়টি গোলের প্রতিটি যেন এক একটি আলাদা গল্প, আর সেই গল্পের কেন্দ্রে ছিল একটি দল, যারা প্রতিপক্ষের প্রতিরোধে থেমে যেতে জানে না।
- 3
- 15
শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল ইউনাইটেড কলকাতার হাতে। কিন্তু গুজরাটের রক্ষণভাগ যেন নিজেদের গোলমুখে তুলে দিয়েছিল অদৃশ্য এক প্রাচীর। পেনাল্টি বক্সের সামনে খেলোয়াড়দের জমাট ভিড়, বালা দেবীকে সারাক্ষণ নজরে রাখা এবং কলকাতার আক্রমণকে বারবার আটকে দেওয়ার কৌশলে প্রথম দিকে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। সবনম রাঠোরের কড়া পাহারায় ইউনাইটেড কলকাতার অধিনায়ক বালা দেবী নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
- 4
- 15
তবু আক্রমণের পথ বন্ধ হয়নি। দুই প্রান্ত দিয়ে গতি বাড়াল কলকাতা। নীতু লিন্ডা ও কাই রুমির ক্ষিপ্র পায়ে বারবার বিপন্ন হল গুজরাটের রক্ষণ। একের পর এক আক্রমণ, গোলের সামনে সুযোগ তৈরি, আবার কখনও গোলরক্ষকের অসাধারণ দক্ষতায় ফিরে আসা, প্রথম ২২ মিনিট যেন ছিল অপেক্ষার এক দীর্ঘ অধ্যায়।
- 5
- 15
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। ডান দিক থেকে প্রিয়া রুইদাসের ভেসে আসা উঁচু ক্রস, আর অরক্ষিত অবস্থানে দাঁড়িয়ে নীতু লিন্ডার নিখুঁত হেড। বল জালে জড়াতেই খুলে গেল গোলের দরজা। ১-০ গোলে এগিয়ে গেল ইউনাইটেড কলকাতা। যেন জমাট অন্ধকারের বুক চিরে ফুটে উঠল প্রথম আলোর রেখা।
- 6
- 15
গোলের পরেও থামেনি কলকাতার আক্রমণ। অনীতা কুমারীর শট, নীতুর জোরালো প্রচেষ্টা, বারবার পরীক্ষার মুখে পড়লেন গুজরাটের গোলরক্ষক শালিনী কালাসাভা। কিছু মুহূর্তে তাঁর দক্ষতা দলকে বাঁচালেও, ক্রমাগত চাপের সামনে রক্ষণভাগের সেই দৃঢ়তা ক্রমেই ক্ষয়ে আসছিল।
- 7
- 15
৪২ মিনিটে প্রায় ২০ মিটার দূর থেকে বাঁ পায়ে প্রবল শট নিলেন কমলা দেবী। মুহূর্তের মধ্যে বল ছুটে গেল গুজরাটের জালে। শালিনীর হাত ছুঁয়েও রোখা গেল না সেই শটের তীব্রতা। ব্যবধান ২-০। আর বিরতির ঠিক আগে বালা দেবীর বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের নীচে লেগে গোললাইন অতিক্রম করতেই কলকাতার আনন্দ আরও গভীর হল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে স্কোরলাইন ৩-০।
- 8
- 15
দ্বিতীয়ার্ধেও বদলাল না ছবিটা। গুজরাট নিজেদের রক্ষণ আগলে রাখার চেষ্টা করল, আর কলকাতা বারবার খুঁজে নিল গোলের নতুন পথ। কর্নারের পর কর্নার, আক্রমণের পর আক্রমণ, গোলের জন্য তাদের মরিয়া তাগিদ স্পষ্ট হয়ে উঠল মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে।
- 9
- 15
৬৯ মিনিটে তনুশ্রীর দুরন্ত ক্রস থেকে হেড করে চতুর্থ গোলটি করলেন কাই রুমি। এর আগে দু’বার ব্যর্থ হলেও তৃতীয় চেষ্টায় আর ভুল করলেন না তিনি। এরপর পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৫-০ করলেন অধিনায়ক বালা দেবী। প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে থাকা সেই অধিনায়কই শেষ পর্যন্ত নিজের দক্ষতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন জোড়া গোলের মাধ্যমে।
- 10
- 15
শেষ গোলটির জন্য অপেক্ষা করতে হল দ্বাদশ কর্নার পর্যন্ত। উঁচু বল ঠিকমতো ধরতে না পারার সুযোগ নিয়ে কাছ থেকে টোকায় বল জালে পাঠালেন পরিবর্ত খেলোয়াড় সোনিয়া মারাক। স্কোরলাইন ৬-০। অতিরিক্ত সময়ে কমলা দেবীর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলেও ততক্ষণে জয়ের ছবিটা সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
- 11
- 15
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল ইউনাইটেড কলকাতা। প্রথম ম্যাচে মাতা রুক্মিণী ফুটবল ক্লাবকে ২২ গোলে হারানোর পর এ দিনের ছয় গোলের জয় তাদের গোলপার্থক্যকে আরও সমৃদ্ধ করল। সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে আয়োজক স্পোর্টিং ক্লাব বাসেইমও, তবে গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান দখল করেছে কলকাতার দল।
- 12
- 15
তবে ছয় গোলের জয়েও পুরোপুরি তৃপ্ত নন কোচ কুলসুম শেখ। তাঁর চোখে এই ম্যাচ ছিল দলের শক্তি যাচাইয়ের পাশাপাশি দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করারও সুযোগ। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কৌশল, বালা দেবীকে আটকে রাখার পরিকল্পনা এবং ভাসানো ক্রসগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ম্যাচ শেষে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তিনি। দলের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও রণকৌশল আরও শাণিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
- 13
- 15
কোচের এই উপলব্ধিই বুঝিয়ে দেয়, বড় জয়ের আনন্দে ভেসে যেতে নেই। সামনে আরও কঠিন লড়াই, আরও বড় পরীক্ষা। আগামী ৩০ অক্টোবর জিএনডিইউ এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ইউনাইটেড কলকাতা। তার আগে নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে আরও ধারালো হয়ে ওঠাই হবে তাদের লক্ষ্য।
- 14
- 15
নভি মুম্বইয়ের মাঠে বুধবার ছয় গোলের ব্যবধানে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি কলকাতার বাঘিনীরা। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণ যতই দুর্ভেদ্য হোক, ইচ্ছাশক্তি আর নিরন্তর প্রচেষ্টার কাছে এক সময় পথ খুলে যায়। গোলের পর গোল, আক্রমণের পর আক্রমণ, সব মিলিয়ে এই জয় যেন এক অদম্য প্রত্যয়ের নাম।
- 15
- 15

















