মাসে কত টাকা SIP করলে কোটিপতি হওয়া সম্ভব? বয়স অনুযায়ী জেনে নিন হিসাব
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ : ০২
শেয়ার করুন
1
10
একদিনে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন নয়, নিয়মিত ছোট অঙ্কের বিনিয়োগও দীর্ঘ সময়ে তৈরি করতে পারে বড় সম্পদ। মিউচুয়াল ফান্ডে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা SIP-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ১ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন?
2
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটিপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বেশি রিটার্নের পিছনে ছুটলে হবে না। বরং সময়, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং নিয়মিত বিনিয়োগ, এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। SIP শুরু করার জন্য বিপুল টাকা প্রয়োজন হয় না। ছোট অঙ্ক দিয়েও শুরু করা যায়।
3
10
১০, ২০ না ৩০ বছর কতদিনে ১ কোটি?ধরা যাক, বছরে গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। সেই হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করতে আনুমানিক ১০ বছরে: মাসে প্রায় ৪৩,৫০০ টাকা, ২০ বছরে: মাসে প্রায় ১০,১০০ টাকা, ৩০ বছরে: মাসে প্রায় ২,৯০০ টাকা।
4
10
অর্থাৎ, বিনিয়োগের সময় যত বাড়বে, প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অঙ্ক ততটাই কমতে পারে। তবে এখানে ১২ শতাংশ রিটার্ন একটি অনুমানমাত্র। মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের সঙ্গে ওঠানামা করে এবং নিশ্চিত নয়।
5
10
২৫ বছর বয়সে SIP শুরু করে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে ১ কোটি টাকা তৈরির লক্ষ্য নিলে, ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্নের অনুমান ধরে মাসে প্রায় ১,৫৫৫ টাকা বিনিয়োগ যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু একই লক্ষ্য যদি ৪৫ বছর বয়সে শুরু করা হয়, তাহলে মাসিক SIP-এর প্রয়োজন বেড়ে ২০,০০০-এরও বেশি হতে পারে। ৫০ বছর বয়সে শুরু করলে প্রয়োজনীয় মাসিক বিনিয়োগের অঙ্ক ₹৪৩,০০০-এরও বেশি হয়ে যেতে পারে।
6
10
কম বয়সে শুরু করলে SIP তে কম্পাউন্ডিং এর সুবিধা পাওয়া যায়৷ ৩০-এর কোঠায় যারা SIP শুরু করছেন, তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ২০-২৫ বছরের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে SIP-এর অঙ্কও বাড়ানো যায়। এক্ষেত্রে step-up SIP কাজে আসতে পারে।
7
10
অন্যদিকে, ৪০-এর কোঠায় SIP শুরু করলে হাতে থাকা সময় তুলনামূলক কম। তাই মাসিক বিনিয়োগের অঙ্ক বেশি হতে পারে। প্রতি বছর SIP-এর পরিমাণ নির্দিষ্ট হারে বাড়ানোকে step-up SIP বলা হয়। যেমন, কেউ প্রথমে মাসে ₹৫,০০০ দিয়ে শুরু করলেন এবং প্রতি বছর SIP-এর অঙ্ক ১০ শতাংশ করে বাড়ালেন।এই পদ্ধতিতে শুরুতেই খুব বড় অঙ্ক বিনিয়োগের প্রয়োজন নাও হতে পারে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ানো যায়।
8
10
বাজারে ওঠানামা হলেই SIP বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার পড়লে একই টাকায় তুলনামূলক বেশি ইউনিট কেনা সম্ভব হয়। তাই শুধুমাত্র অতীতের রিটার্ন দেখে ফান্ড বেছে নেওয়া বা প্রতি বছর ১৫-১৮ শতাংশ রিটার্ন ধরে পরিকল্পনা করা ঠিক নয়।
9
10
১ কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরই পুরো টাকা তুলে নেওয়া সবসময় প্রয়োজনীয় নয়। যদি কয়েক বছরের মধ্যে সেই টাকা বাড়ি কেনা, সন্তানের পড়াশোনা বা অবসরের মতো কোনও নির্দিষ্ট কাজে প্রয়োজন হয়, তাহলে ধীরে ধীরে কম ঝুঁকির বিনিয়োগে যাওয়ার কথা ভাবা যায়।
10
10
SIP-এর মাধ্যমে ১ কোটি টাকা তৈরির কোনও নিশ্চিত শর্টকাট নেই। বাজারের রিটার্ন নির্দিষ্ট নয়, তাই উপরের সমস্ত হিসাবই নির্দিষ্ট রিটার্নের অনুমানের ভিত্তিতে।তবে হিসাবটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে—যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায় এবং যত বেশি সময় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া যায়, কম্পাউন্ডিং-এর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তত বাড়ে। তাই মাসে ₹৫০০, ₹২,০০০ বা ₹১০,০০০—যে অঙ্কই হোক, নিজের আয়, লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা করে নিয়মিত বিনিয়োগ করাই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির মূল বিষয়।