প্রথমে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ঘোষণা। এর পর 'প্যারোল'-এ মুক্ত হয়ে টানা ৪০ বছর আত্মগোপন! এই মেয়াদকালে শুধু পালিয়ে বেড়ানোই নয়। জালিয়াতি করে জুটিয়েছিলেন সরকারি শিক্ষকের চাকরি। পান 'সেরা শিক্ষক'-এর সম্মাননা। তারপর কোনও বাধা ছাড়াই অবসরগ্রহণ করেন। অবশেষে দীর্ঘ চার দশক পর ফের ধরা পড়লেন পুলিশের জালে। এ বার তাঁর 'প্যারোল'-এর আবেদন খারিজ করে দিল তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট।
2
8
একই সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির চরম ব্যর্থতা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে।
3
8
ঘটনাটি তেলেঙ্গানার। ১৯৮৩ সালে একটি খুনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁকে ৩০ দিনের জন্য 'প্যারোল'-এ মুক্ত করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৪ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয় সেই মেয়াদ। ১৮ মার্চ ১৯৮৪ সালে জেলে তাঁর আত্মসমর্পণের কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় থেকেই ফেরার তিনি।
4
8
পরিবার সূত্র এবং আদালতে পেশ করা নথি অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় তিনি নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকের চাকরি জোটান। ২০০৪ সালে 'সেরা শিক্ষক'-এর পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। এরপর ২০১৩ সালে সম্মানজনকভাবে তিনি ওই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর, ২০২৪ সালের ১৬ মে মাসে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাঁর সন্ধানে ফের অভিযান চালায়। শেষমেশ, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তাঁকে ফের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
5
8
আসামির স্ত্রী এর পর আদালতের দ্বারস্থ হন। আবেদন জানিয়ে দাবি করেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন তাঁর স্বামী অসুস্থ। তাই তাঁকে 'প্যারোল'-এ ছেড়ে দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারপতি টি মাধবী দেবীর একক বেঞ্চ সেই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন।
6
8
আদালত পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, আসামি প্রথমে নিজের সাজা লুকিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন। জীবনের আসল সোনালী সময়টা জেলের বাইরে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়েছেন। একে কোনও সাধারণ ভুল বলা চলে না। বরং এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। কী করে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই 'প্যারোল'-এ ছাড়া পান একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি? ৪০ বছর ধরে কীভাবে অধরা থেকে সরকারি চাকরি করেন? সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ সংশোধনাগার ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি।
7
8
জেলের ভিতর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে কিনা জেনে নিয়ে স্বাস্থ্যগত কারণে প্যারোলের আবেদন নাকচ করে আদালত। আদালত স্পষ্ট জানায়, 'প্যারোল'-এ ছাড় পাওয়া বন্দিদের সাজা মকুবের যে ২৭ দিন পাওনা ছিল, তা বাতিল করা হয়।
8
8
এমনকী পরবর্তী তিন বছরের জন্য 'প্যারোল' বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকেই সম্পূর্ণ আইনসম্মত বলে জানানো হয়। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এভাবে 'প্যারোল' ভেঙে পালিয়ে থাকার সাহস না পায়, সেজন্য রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কড়া নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট।