তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমায় নিজস্ব এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সঞ্জয় লীলা বনশালি। ট্র্যাজিক প্রেম, নাটকীয় আবেগ, অপূর্ব সেট ডিজাইন ও সঙ্গীত -এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর চলচ্চিত্র জগৎ আজ আলাদা এক নান্দনিক পরিচয়ের নাম।জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর কিছু সেরা ছবি, যেগুলো শুধু সফলই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার ভিজ্যুয়াল ভাষা বদলে দিয়েছে।
2
10
হম দিল দে চুকে সনম: এই রঙিন মিউজিক্যাল ড্রামাই প্রতিষ্ঠা করে ভন্সালীর স্বাক্ষর ভিজ্যুয়াল স্টাইল। ঐশ্বর্য রাই ও সলমন খান অভিনীত এই ছবিতে প্রেম, দায়িত্ব ও ত্যাগের দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে ইতালির মনোরম প্রেক্ষাপটে।
3
10
দেবদাস: শরৎচন্দ্রের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি বনশালির সিনেম্যাটিক ভাষার চূড়ান্ত উদাহরণ। শাহরুখ খান-এর ট্র্যাজিক নায়ক, বিশাল সেট, সুরেলা সঙ্গীত সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় ভিজ্যুয়াল কবিতা।
4
10
ব্ল্যাক: চিরচেনা রঙিন জগত থেকে বেরিয়ে এসে এখানে বনশালি নির্মাণ করেন এক সংবেদনশীল মানবিক গল্প। অন্ধ-বধির এক তরুণীর জীবনযুদ্ধ এবং তার শিক্ষক -এই সম্পর্ককে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলেন অমিতাভ বচ্চন ও রানি মুখার্জি।
5
10
বাজিরাও মস্তানি: মারাঠা পেশোয়া বাজিরাও ও মস্তানির প্রেমগাথা নিয়ে নির্মিত এই ঐতিহাসিক রোম্যান্স বনশালির ভিজ্যুয়াল কল্পনার শিখর। রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন-এর তীব্র অভিনয় ছবিটিকে ক্লাসিকের মর্যাদা দেয়।
6
10
গঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি: বাস্তব জীবনের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবি প্রান্তিক নারীর সংগ্রাম ও ক্ষমতায়নের কাহিনি তুলে ধরে। আলিয়া ভাট-এর অভিনয় এখানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
7
10
গুজারিশ: ইউথেনেশিয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত জাদুকরের জীবনসংগ্রাম উঠে আসে। হৃতিক রোশন ও ঐশ্বর্যর অভিনয় ছবিটিকে দিয়েছিল এক ধূসর বিষণ্ণ অথচ অপূর্ব কাব্যিক আবহ।
8
10
পদ্মাবত: রানি পদ্মাবতীর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মহাকাব্যিক ছবি পোশাক, সেট, সঙ্গীত -সব দিক থেকেই আলোচনায় ছিল। বিতর্ক সত্ত্বেও এটি বিশ্বজুড়ে দর্শকের নজর কাড়ে।
9
10
খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল: বনশালির প্রথম ছবি হলেও আবেগের গভীরতায় এটি আজও অনন্য। বধির-নিঃশব্দ পরিবারে জন্ম নেওয়া এক মেয়ের সঙ্গীত খুঁজে পাওয়ার গল্প এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে বলা হয়েছে।
10
10
বনশালির সিনেমা শুধু গল্প নয়, তা এক দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা। তাঁর ছবিতে প্রেম যেমন নাটকীয়, তেমনই সেট, সঙ্গীত ও আবেগ মিলিয়ে তৈরি হয় এক সিনেম্যাটিক জগত, যা দর্শককে টেনে নেয় অন্য এক বাস্তবে।