ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ম হল চাকরিপ্রার্থী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই। অর্থাৎ, চাকরিপ্রার্থী কোনও অপরাধ করেছেন কি না, তাঁর নামে কোনও মামলা চলছে কি না, বা কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না।
2
13
এই বিষয়গুলি সম্পর্কে নিশ্চিত হলেই চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এই গোটা প্রক্রিয়াটিকে চরিত্র যাচাই প্রক্রিয়া বলা হয়। কিন্তু দেশে সাময়িক কয়েকটি বিক্ষোভ সমাবেশ এবং বাংলাদেশের আদলে দেশেও সরকার পরিবর্তনের ডাক উঠতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল আসতে চলছে।
3
13
সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়মকানুন কঠোর করেছে উত্তরপ্রদেশ। ‘সরকার পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যে সংঘটিত আন্দোলন বা হিংসায় জড়িতদের সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
4
13
উত্তরপ্রদেশের নিয়োগ বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজের জারি করা এক নির্দেশিকা অনুসারে, সরকারি দপ্তর, কর্পোরেশন, পরিষদ এবং স্থানীয় সংস্থাগুলিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়মকানুন প্রযোজ্য হবে।
5
13
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত সহিংস কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত প্রার্থীদের সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হতে পারে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনও প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
6
13
নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর থাকলেই বা কোনও তদন্ত বিচারাধীন থাকলে তিনি সরকারি চাকরির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
7
13
পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে ওই চাকরিপ্রার্থীর চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সংশোধিত নিয়মগুলি সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কর্মরতদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হবে না।
8
13
সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছিলেন, কিছু অজ্ঞাত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
9
13
তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনী সংস্কার, ন্যায়বিচারের স্লোগান এবং গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতার বীজ বপন করছেন, তাদের বুঝতে হবে যে ভারতের গণতন্ত্র এক বিশাল বটবৃক্ষ, যাকে ষড়যন্ত্রের ঝড়ে টলানো যায় না।”
10
13
সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, কোন চাকরিপ্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি, পরীক্ষা-সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সলভার গ্যাং-এর ব্যবহার এবং ভুয়ো পরীক্ষার্থীর ব্যবহার, জাল সার্টিফিকেট এবং সাইবার অপরাধ, ইউপিআই জালিয়াতির অভিযোগ থাকে তাহলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
11
13
নিয়মে কোনও ব্যক্তির ২১ বছর বয়স হওয়ার পর গৃহীত কার্যকলাপ যাচাই-বাছাই করারও কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও চাকরি পাওয়ার আগের তিন বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কার্যকলাপে অংশগ্রহণকে সরকারি বিরোধী বলে চিহ্নিত করা হবে, যদি না ব্যক্তির আচরণ বা দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকে।
12
13
তবে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী চরিত্র যাচাই অসম্পূর্ণ থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে না। যাচাইয়ের ফলাফলের সাপেক্ষে, নির্ধারিত ফর্ম ও স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের অস্থায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করা যেতে পারে।
13
13
পরবর্তীকালে যদি কোনও প্রার্থী অযোগ্য বলে প্রমাণিত হন অথবা তিনি ভুল তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানা যায়, তাহলে তার নিয়োগ বাতিল করা হতে পারে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।