চালের গুঁড়ো দিয়েই কেন তৈরি হয় আলপনা বা রঙ্গোলি? প্রাচীন এই রীতির নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯ : ৫৫
শেয়ার করুন
1
6
দীপাবলি হোক বা লক্ষ্মীপুজো, বাড়ির প্রবেশদ্বারে রঙ্গোলি আঁকার রীতি বহু পুরনো। কিন্তু জানেন কি, আগে রঙ্গোলি আঁকার জন্য মূলত চালের গুঁড়ো ব্যবহার করা হত কেন? এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, শুভকামনা এবং প্রকৃতির প্রতি যত্নের এক বিশেষ বার্তা।
2
6
ভারতীয় সংস্কৃতিতে রঙ্গোলি শুধু বাড়ি সাজানোর একটি মাধ্যম নয়। শুভ অনুষ্ঠান বা উৎসবের সময় বাড়ির উঠোন কিংবা প্রবেশদ্বারে নানা নকশা আঁকার এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং ইতিবাচক শক্তির ধারণা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই লোকশিল্প বিভিন্ন নামে পরিচিত। কোথাও রঙ্গোলি, কোথাও কোলাম, আবার বাংলায় এর পরিচিত নাম আলপনা।
3
6
আগেকার দিনে রঙ্গোলি বা মেঝের নকশা তৈরির জন্য চালের গুঁড়ো, আটা, ফুলের পাপড়ি এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হত। বিশেষত চালের গুঁড়ো ব্যবহারের পিছনে ছিল একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাড়ির সামনে ছড়িয়ে থাকা চালের গুঁড়ো পিঁপড়ে, ছোট পাখি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর খাবার হিসেবেও কাজে লাগত। অর্থাৎ, বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর জন্যও সামান্য খাবারের ব্যবস্থা করা হত।
4
6
এই প্রথার মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান এবং জীবের প্রতি মমত্ববোধের ধারণা প্রকাশ পায়। তবে সব অঞ্চলে রঙ্গোলি তৈরির উপকরণ বা রীতিনীতি এক ছিল না। কোথাও চালের গুঁড়ো, কোথাও রঙিন গুঁড়ো, ফুলের পাপড়ি কিংবা অন্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হত।
5
6
ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসে বাড়ির প্রবেশদ্বারে রঙ্গোলি আঁকাকে শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সুন্দর নকশার মাধ্যমে দেবদেবীকে স্বাগত জানানো হয়৷ রঙ্গোলির নকশায় ফুল, পদ্ম, জ্যামিতিক আকৃতি এবং নানা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। অনেক পরিবারে বিশ্বাস করা হয়, বাড়ির প্রবেশদ্বারে এমন নকশা আঁকলে শুভ শক্তির আগমন ঘটে।
6
6
সময়ের সঙ্গে রঙ্গোলি তৈরির উপকরণে পরিবর্তন এসেছে। এখন বাজারে বিভিন্ন রঙের গুঁড়ো, তৈরি নকশা এবং স্টিকারও পাওয়া যায়। তবু চালের গুঁড়ো দিয়ে নকশা আঁকার প্রাচীন রীতি তাৎপর্যপূর্ণ৷