বয়স ৪০, অবসরের জন্য টাকা জমাতে পারেননি, কীভাবে শুরু করবেন, রিটায়ারমেন্টের আগে কত জমাতে হবে দেখে নিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ : ৩০
শেয়ার করুন
1
12
চাকরিজীবনের শুরু থেকেই অবসরের জন্য টাকা জমানোর পরামর্শ দেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি কেনা কিংবা অন্যান্য দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই সঞ্চয়ের কথা ভাবার সময় পান না। যখন বয়স ৪০ পেরোয়, তখন অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা শুরু হয়।
2
12
প্রশ্ন ওঠে, এই বয়সে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করলে কি আদৌ পর্যাপ্ত টাকা জমানো সম্ভব? উত্তর হল, হ্যাঁ। তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং প্রতি বছর সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানোর অভ্যাস।
3
12
ধরা যাক, কারও বর্তমান বয়স ৪০ বছর। ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ হাতে রয়েছে প্রায় ২০ বছর। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে উল্লেখযোগ্য অবসরকালীন তহবিল তৈরি করা সম্ভব।
4
12
তবে ২৫ বা ৩০ বছর বয়স থেকে বিনিয়োগ শুরু করলে যে সুবিধা পাওয়া যায়, ৪০ বছর বয়সে শুরু করলে সেই একই তহবিল গড়তে তুলনামূলক বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
5
12
প্রথমেই হিসাব করতে হবে অবসরের পরে মাসিক খরচ কত হতে পারে। কারণ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনে খাবার, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে কোনও পরিবারের মাসিক খরচ ৩০ হাজার টাকা হলে, বার্ষিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ধরে ২০ বছর পরে সেই খরচ বেড়ে প্রায় ৯৬ হাজার টাকা হতে পারে।
6
12
সেক্ষেত্রে অবসরের পরে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কয়েক কোটি টাকার তহবিল প্রয়োজন হতে পারে। একটি প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, অবসরের সময় বার্ষিক খরচের ২৫ থেকে ৩০ গুণ অর্থ হাতে রাখার লক্ষ্য নেওয়া যায়। তবে প্রকৃত প্রয়োজন নির্ভর করবে ব্যক্তির জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, আয় এবং অবসরের সময়ের উপর।
7
12
৪০ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে Step-up SIP কার্যকর একটি পদ্ধতি হতে পারে। সাধারণ SIP-তে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। অন্যদিকে Step-up SIP-তে প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ নির্দিষ্ট হারে বাড়ানো হয়।
8
12
ধরা যাক, কেউ প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে SIP শুরু করলেন। পরের বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা করলেন। তার পরের বছর তা আরও ১০ শতাংশ বাড়ালেন। এভাবে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে বড় তহবিল তৈরি করা সহজ হয়।
9
12
কোন কোন বিষয়ে নজর রাখবেন? ৪০ বছর বয়সে অবসর পরিকল্পনা শুরু করলে আয়ের ২৫-৩০% সঞ্চয়ের জন্য বরাদ্দ করা প্রয়োজন। শুধু শেয়ারবাজার নির্ভর বিনিয়োগ না করে EPF, PPF, NPS এবং মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে জানুন।
10
12
ঋণের বোঝা কমান: ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বা বেশি সুদের ব্যক্তিগত ঋণ থাকলে দ্রুত তা মেটানোর চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যবিমা এবং পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত টার্ম ইনস্যুরেন্স জরুরি।
11
12
অন্তত ৬ মাসের সংসার খরচের সমান অর্থ সহজে তোলা যায় এমন জায়গায় রাখুন। হঠাৎ চাকরি চলে গেলে বা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে এই টাকা কাজে আসবে। প্রতি বছর নিজের বিনিয়োগের হিসাব দেখুন। অবসরের বয়স যত এগিয়ে আসবে, ততই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পরিমাণ কমিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্পের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন।
12
12
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেশি রিটার্ন পাওয়ার আশায় অযথা ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়। মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজারের উপর নির্ভরশীল, কোনও নির্দিষ্ট রিটার্ন নিশ্চিত নয়। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।