ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক শুক্রবার তাদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। ৩ জুন থেকে ৫ জুন পর্যন্ত চলা তিন দিনের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানায়, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ নীতিগত অবস্থানও বজায় রাখা হয়েছে।
2
11
বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা ভারতের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
3
11
মুদ্রানীতি কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই থাকবে। ফলে আপাতত গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ বা অন্যান্য ব্যাঙ্ক ঋণের সুদের হারে কোনও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাড়ির ঋণগ্রহীতাদের মাসিক কিস্তিও একই থাকবে, যদি না পৃথকভাবে ব্যাঙ্কগুলি ঋণের হার সংশোধন করে।
4
11
এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশে, মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি এবং ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
5
11
বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিউট্রাল’ অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। এই অবস্থান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর স্বাধীনতা দেয়। অর্থাৎ এখনই কোনও নির্দিষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চাইছে না আরবিআই।
6
11
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন নিয়ে। চলতি রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
7
11
তবে উদ্বেগের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির ভিত্তি এখনও শক্তিশালী বলেই মনে করছে আরবিআই। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের ভালো পারফরম্যান্স এই বৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে।
8
11
যদিও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ৬.৬ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করেছে আরবিআই। প্রথম ত্রৈমাসিকে ৬.৬ শতাংশ, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৬.৩ শতাংশ, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৬.৫ শতাংশ এবং শেষ ত্রৈমাসিকে ৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
9
11
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৭.৪ শতাংশ এবং ৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক, ধাতু, রাবার ও প্লাস্টিকজাত শিল্পের কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
10
11
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে খুচরো মূল্যস্ফীতি ৫.১ শতাংশ এবং কোর ইনফ্লেশন ৪.৭ শতাংশ হতে পারে। এছাড়া দুর্বল বর্ষা ও সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতির কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
11
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতেই আরবিআই আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পথ বেছে নিয়েছে।