ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার ক্রমাগত পতন এবং রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টাকার উপর চাপ কমাতে আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।
2
13
শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের তিনটি সরকারি তেল বিপণন সংস্থার ডলারের দৈনিক চাহিদা মেটাতে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি, রুপির সঙ্গে যুক্ত বৈদেশিক মুদ্রার ডেরিভেটিভ লেনদেনের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
3
13
RBI-এর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল স্পট মার্কেটে ডলারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতীয় মুদ্রার উপর অতিরিক্ত চাপ কমানো। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে রুপির উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
4
13
নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সোমবার থেকে বিশেষ সুবিধার আওতায় ডলার সংগ্রহ করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির দৈনিক ডলারের চাহিদা সরাসরি মেটাবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
5
13
সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির বিপুল পরিমাণ ডলারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে এই ডলার কেনার চাহিদা বেড়ে গেলে রুপির উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
6
13
বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে RBI নিজের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার থেকে সরাসরি ডলার সরবরাহ করলে স্পট মার্কেটে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে রুপির বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
7
13
শুধু তেল সংস্থাগুলিকে ডলার সরবরাহই নয়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ করেছে RBI। রুপির সঙ্গে যুক্ত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড কারেন্সি ডেরিভেটিভসে পজিশন নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি ডলার থেকে কমিয়ে ৫০ লক্ষ ডলার করা হয়েছে।
8
13
পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার ডিলারদের রুপির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ডেরিভেটিভ চুক্তির নোশনাল অঙ্কের ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রিস্ক রিজার্ভ’ হিসেবে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
9
13
এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার ডেরিভেটিভ চুক্তি বাতিল করে পুনরায় বুক করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত জল্পনা ও ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
10
13
শুক্রবার ডলারের তুলনায় রুপির দর ছিল ৯৬.৭৩ টাকা। মে মাসে রুপির সর্বকালীন সর্বনিম্ন স্তর ছিল ডলার প্রতি ৯৬.৯৬ টাকা। অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রা এখনও সেই দুর্বলতম স্তরের কাছাকাছি রয়েছে।
11
13
এর আগে বাজারে ডলারের জোগান বাড়ানো এবং নীতিগত সুদের হার বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ করেছিল RBI। তা সত্ত্বেও রুপির উপর চাপ পুরোপুরি কমেনি।
12
13
শনিবার নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড বাজারে এক মাসের ডলার-রুপি চুক্তির দর প্রায় ৪০ পয়সা কমেছে বলে এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। তবে ওই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম।
13
13
সব মিলিয়ে, রুপির পতন রুখতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর অর্থনৈতিক মহলের।