শত প্রতিকূলতাও হার মানাতে পারেনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, অর্থসঙ্কট-সব বাধা অতিক্রম করেই দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় সফল রমেশ গোরখ ঘোলাপ।
2
7
জন্ম মহারাষ্ট্রের সোলাপুর এক ছোট্ট গ্রামে। আর পাঁচজনের থেকে তখনই বেশ আলাদা রমেশ। বাঁ পা পোলিয়ো আক্রান্ত হওয়ায়, তখন থেকেই হাঁটাচলায় সমস্যা রমেশের। চারজনের পরিবারে রমেশের বাবাই সংসারের হাল ধরেছিলেন। একটি সাইকেল মেরামতির দোকান চালিয়েই অন্নসংস্থান হত।
3
7
কিন্তু সেই টানাটানির সংসারে হঠাৎই ঘটে যায় বিপত্তি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাবার বদলে সংসারের হাল ধরতে হয় মা-কেই। প্রথমে দুই ছেলেকে বাড়িতে রেখেই গ্রামে ঘুরে ঘরে চুড়ি বিক্রি করতেন তিনি।
4
7
মায়ের কষ্ট দেখে পায়ের অসুবিধা সত্ত্বেও নিজেকে ঘরবন্দি রাখতে পারেননি। ছোট থেকে মায়ের সঙ্গেই রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন চুড়ি বিক্রির কাজে। তারই মাঝে চলত পড়াশোনা।
5
7
দ্বাদশের চূড়ান্ত পরীক্ষার দোরগোড়ায় যখন দাঁড়িয়ে, তখন জীবন তাঁর আবারও পরীক্ষা নেয়। হঠাৎই মৃত্যু হয় তাঁর বাবার। সেই সময়ে পঠনপাঠনের জন্যই গ্রামের বাড়িয়ে ছিলেন রমেশ। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন ছিল, বাবার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার মতো দু'টাকা বাসভাড়াও তাঁর পকেটে ছিল না। অতিকষ্টে প্রতিবেশীদের সাহায্যে বাড়ি ফেরেন রমেশ। বাবার মরদেহকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান।
6
7
বাবার মৃত্যুর পরেই ছিল দ্বাদশের চূড়ান্ত পরীক্ষা। তবে কঠিন পরিস্থিতি তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। পরীক্ষায় ৮৮.৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। সংসার চালাতে দ্রুত চাকরি পেতে হবে-বরাবরই এই চিন্তা মাথায় ছিল তাঁর। তাই বেশি কিছু না ভেবে ডিএড কোর্সে ভর্তি হন। কোর্স শেষে ২০০৯ সালেই মেলে শিক্ষকতার চাকরি। তবে পড়াশোনার প্রতি অমোঘ টান তাঁকে বেশিদিন দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। এ জন্য দূরশিক্ষার মাধ্যমে কলা বিভাগে স্নাতকও হন তিনি।
7
7
এর পর ২০১০-এই আরও বড় স্বপ্ন সফল করতে উঠেপড়ে লাগেন রমেশ। দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউপিএসসি দেন তিনি। কিন্তু প্রথমবার কোনও ফল মেলেনি। ব্যর্থ হন পরীক্ষায়। কিন্তু বরাবরের মতো এ বারও হাল ছাড়েননি তিনি। বরং এ বার পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করতে নিজের চাকরিই ছেড়ে দেন রমেশ। আর তারই হাতেনাতে ফল পান ২০১২ সালে। ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৮৭ র্যাঙ্ক করে আইএএস পদমর্যাদা লাভ করেন। প্রথম স্থান অর্জন করেন মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাতেও।