কলকাতার মেট্রো স্টেশনে শেষ করতে চেয়েছিলেন জীবন, আজ তিনিই উত্তর মেরুতে দৌড়ানো প্রথম ভারতীয়! রাম গোপাল কোঠারির অবিশ্বাস্য গল্প জানেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১ আগস্ট ২০২৬ ১৩ : ০৪
শেয়ার করুন
1
9
জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশ অন্ধকার বলে মনে হয়। অনেকেই সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তবে কেউ কেউ অন্ধকার ভেঙে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে নেন। রাম গোপাল কোঠারির জীবন ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প। একসময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কলকাতার একটি মেট্রো স্টেশনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন শেষ করার কথাও ভেবেছিলেন। অথচ আজ তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে উত্তর মেরুতে (নর্থ পোল) ম্যারাথন দৌড় সম্পূর্ণ করেছেন।
2
9
রাম গোপাল কোঠারি ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। ব্যবসা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং জীবনের নানা ব্যর্থতা তাঁকে ক্রমশ হতাশ করে তোলে।
3
9
একসময় তিনি মনে করেছিলেন, আর বেঁচে থাকার কোনও অর্থ নেই। সেই কারণে একদিন কলকাতার একটি মেট্রো স্টেশনে গিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁর মনে পরিবর্তন আসে। তিনি বুঝতে পারেন, জীবন শেষ করে দিলে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। বরং নিজেকে বদলাতে হবে।
4
9
এরপর তিনি নিজের জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটা এবং দৌড়ানো শুরু করেন। প্রথমদিকে কয়েকশো মিটার দৌড়াতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। প্রতিদিন একটু একটু করে অনুশীলন চালিয়ে যেতে থাকেন। ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের পাশাপাশি মানসিক শক্তিও বাড়তে থাকে।
5
9
দৌড় তাঁর কাছে শুধু একটি খেলা ছিল না, বরং নতুন করে বাঁচার শক্তি হয়ে ওঠে। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন ম্যারাথনে অংশ নিতে শুরু করেন। সাফল্য পেতে শুরু করলে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকে।
6
9
তারপর আন্তর্জাতিক ম্যারাথনেও অংশ নেন। মরুভূমি, পাহাড়, বরফে ঢাকা এলাকা-পৃথিবীর নানা কঠিন জায়গায় তিনি দৌড়েছেন।
7
9
সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন তিনি উত্তর মেরুতে আয়োজিত ম্যারাথনে অংশ নেন। উত্তর মেরুর তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নিচে থাকে। চারদিকে শুধু বরফ, প্রবল ঠান্ডা হাওয়া এবং অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ। সেখানে দৌড়ানো সাধারণ মানুষের পক্ষে তো দূরের কথা, অভিজ্ঞ অ্যাথলিটদের কাছেও বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেই রাম গোপাল কোঠারি ম্যারাথন শেষ করেন এবং উত্তর মেরুতে দৌড়ানো প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
8
9
তিনি মনে করেন, শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের কঠিন সময়ে কাউকে একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সাহায্য চাইতে লজ্জা পাওয়া উচিত নয়। তাঁর নিজের জীবনই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
9
9
আজ রাম গোপাল কোঠারি শুধু একজন ম্যারাথন রানার নন, তিনি হাজার হাজার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর গল্প শেখায়, জীবনে যত বড় বাধাই আসুক না কেন, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে নতুন করে শুরু করা সম্ভব। যে মানুষ একদিন জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তিনিই আজ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সাহস, অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।