প্রথম রাখি কে বেঁধেছিলেন জানেন? শুধু ভাই-বোনের উৎসব নয়, রাখিবন্ধনের ইতিহাসে লুকিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ কাহিনি
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৩ আগস্ট ২০২৬ ২০ : ৩৬
শেয়ার করুন
1
12
রাখিবন্ধন শুধু ভাই-বোনের উৎসব নয়, এটি ভালবাসা, বিশ্বাস ও সুরক্ষার প্রতীক। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে সারা ভারত জুড়ে পালিত হয় এই বিশেষ দিন।
2
12
রাখিবন্ধন শুধু ভাই-বোনের উৎসব নয়, এটি ভালবাসা, বিশ্বাস ও সুরক্ষার প্রতীক। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে সারা ভারত জুড়ে পালিত হয় এই বিশেষ দিন।
3
12
জানেন কি প্রথম রাখি আসলে কে বেঁধেছিলেন? এর উত্তর একক নয়। পুরাণ, মহাভারত এবং ইতিহাসে রাখিবন্ধনের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পগুলো।
4
12
দেবরাজ ইন্দ্রকে প্রথম রক্ষাসূত্র বেঁধেছিলেন ইন্দ্রাণী: রাখির সবচেয়ে প্রাচীন উল্লেখ পাওয়া যায় ভবিষ্য পুরাণে। সেখানে বলা হয়েছে, দেবতা ও অসুরদের ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সময় দেবরাজ ইন্দ্র পরাজয়ের মুখে পড়েছিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী (শচী) ঋষিদের মন্ত্রে পবিত্র করা একটি সুতো ইন্দ্রের ডান হাতে বেঁধে দেন।
5
12
বিশ্বাস করা হয়, সেই রক্ষাসূত্রের আশীর্বাদেই ইন্দ্র নতুন শক্তি পান এবং যুদ্ধে জয়ী হন। তাই অনেকের মতে, এটাই ইতিহাসের প্রথম রাখি।
6
12
দ্রৌপদীর আঁচল থেকেই রক্ষাবন্ধনের প্রতীক: মহাভারতের আরেকটি বিখ্যাত কাহিনিতে দেখা যায়, শ্রীকৃষ্ণের আঙুলে সুদর্শন চক্রের আঘাতে রক্ত বের হলে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে তাঁর আঙুলে বেঁধে দেন।
7
12
কৃষ্ণ সেই ভালবাসার ঋণ কখনও ভোলেননি। পরে কৌরব সভায় দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় তিনি অলৌকিকভাবে তাঁকে রক্ষা করেন। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক রাখি ছিল না, তবুও নিঃস্বার্থ সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে এই গল্প রাখিবন্ধনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে।
8
12
রানি কর্ণাবতী ও সম্রাট হুমায়ুনের গল্প:ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাখির কাহিনি রাজস্থানের রানি কর্ণাবতী ও মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে ঘিরে। কথিত রয়েছে, বাহাদুর শাহের আক্রমণের আশঙ্কায় কর্ণাবতী হুমায়ুনের কাছে একটি রাখি পাঠিয়ে সাহায্য চান।
9
12
হুমায়ুন সেই রাখির সম্মান রেখে সেনা নিয়ে রওনা হলেও, তিনি পৌঁছনোর আগেই চিতোরে জহর সংঘটিত হয়। যদিও ইতিহাসবিদদের একাংশ এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবুও ভারতীয় লোককথায় এটি রাখিবন্ধনের অন্যতম পরিচিত গল্প।
10
12
যম ও যমুনার রাখির কাহিনি: আরও একটি পুরাণকথা অনুযায়ী, বহু বছর পর ভাই যম বোন যমুনার বাড়িতে গেলে যমুনা তাঁকে রক্ষাসূত্র বেঁধে আপ্যায়ন করেন। যম এতটাই খুশি হন যে, তিনি ঘোষণা করেন যে ভাই এই দিনে বোনের কাছ থেকে রাখি বাঁধবে, তার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল হবে। এই বিশ্বাস থেকেই রাখিবন্ধনের প্রচলন আরও জনপ্রিয় হয়।
11
12
সময়ের সঙ্গে রাখির অর্থ আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখন শুধু ভাই-বোন নয়, বন্ধু, আত্মীয়, গুরু-শিষ্য এমনকী সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও রাখি বাঁধা হয়।
12
12
একটি ছোট্ট সুতো আজও মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হল বিশ্বাস, ভালবাসা ও একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার।