দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষের চিকিৎসার সুবিধার্থে ভারত সরকারের একটি অত্যন্ত জনপ্ৰিয় ও সহায়ক উদ্যোগ হল ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ ।
2
10
এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত পরিবারগুলি গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি এই পদক্ষেপে বহু দরিদ্র পরিবার চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ থেকে স্বস্তি পেয়েছে।
3
10
তবে আপনার কাছে আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেই যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা ফ্রিতে হবে, তা কিন্তু নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্র ও রোগ এই যোজনার অন্তর্ভুক্ত নয়। কোন কোন চিকিৎসা আয়ুষ্মান কার্ডের আওতায় পড়ে না?
4
10
ওপিডি চিকিৎসা: আপনি যদি সাধারণ শারীরিক অসুস্থতায় কেবল আউটডোর বা ওপিডি-তে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি চলে আসেন, তবে সেই খরচ এই কার্ডে মিলবে না। হাসপাতালে ভর্তি না হলে কেবল রক্ত বা অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও এই যোজনায় পাওয়া যায় না।
5
10
ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর সাপ্লিমেন্ট: সাধারণ দুর্বলতা কাটাতে বা স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ব্যবহৃত ভিটামিন, টনিক বা ফুড সাপ্লিমেন্টের খরচ সরকার বহন করে না। তবে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে কোনও চিকিৎসার অংশ হিসেবে এগুলো দেওয়া হলে ক্ষেত্রবিশেষে ছাড় মিলতে পারে।
6
10
দাঁতের চিকিৎসা: দাঁতের সাধারণ পরীক্ষা, দাঁত তোলা, পরিষ্কার করা বা ফিলিং করানোর মতো কাজগুলি এই স্কিমে কভার হয় না। তবে কোনও দুর্ঘটনা, টিউমার বা চোয়ালের মারাত্মক আঘাতের ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হলে তা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
7
10
অন্যান্য চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার: বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের বিশেষ চিকিৎসা যেমন আইভিএফ, কসমেরিক বা প্লাস্টিক সার্জারি, ওজন কমানোর সার্জারি, ট্যাটু রিমুভাল ইত্যাদি লাইফস্টাইল সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলি আয়ুষ্মান যোজনার সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।
8
10
কারা পাবেন না এই আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা? আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি মূলত দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য তৈরি।
9
10
এই ব্যক্তিরা এই কার্ডের আবেদনের যোগ্য নন। সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী। বার্ষিক আয়করের আওতায় থাকা নাগরিকেরা। যাঁরা ইতিমধ্যেই ESIC সুবিধার অন্তর্ভুক্ত। সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী, যাঁদের নিয়মিত পিএফ কাটে।
10
10
কাজেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে কোন কোন বিভাগ ও রোগ আয়ুষ্মান স্কিমের মধ্যে পড়ছে, তা আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। এতে চিকিৎসার সময় কোনও অপ্রীতিকর আর্থিক বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।