বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণ করতে মাত্র ৬ বছর বয়সেই পোষাক খুলে শরীর প্ৰদৰ্শন সন্তানের!
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ : ৫৮
শেয়ার করুন
1
6
‘জুনিয়র মুম্বই শ্রী ২০২৬’-এর ৫৫ কেজি ও অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগে যখন একের পর এক পেশিবহুল প্রতিযোগী মঞ্চে উঠছিলেন, তখন দর্শকদের চোখ আচমকাই থমকে যায় এক খুদে প্রতিযোগীর দিকে। বয়স মাত্র ছয়। নাম রচিত পাঞ্চাল। বয়সকে মিথ্যে প্রমাণ করে রচিত যে আত্মবিশ্বাস আর শারীরিক কাটস প্রদর্শন করল, তা দেখে উপস্থিত প্রায় ৩০ জনের বেশি অভিজ্ঞ বডিবিল্ডারও বিস্মিত। মালাড ইস্টের জয় ভবানী জিম এবং গ্রেটার বম্বে বডিবিল্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রচিতের অংশগ্রহণ নিছক একটি প্রতিযোগিতা ছিল না—এ ছিল একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্নপূরণের গল্প। ছবি: সংগৃহীত
2
6
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গিরগাঁওয়ের এক বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় প্রথমবার মঞ্চে ওঠে রচিত। সেদিন দর্শকাসনে বসে ছিলেন বাবা উমেশ ও মা সোনাল। ছেলের আত্মবিশ্বাসী পোজ, মঞ্চে নির্ভীক উপস্থিতি দেখে তাঁদের চোখে আনন্দের জল এসে যায়। উমেশ পরে বলেন, “আমার যন্ত্রণা সেদিন গর্বে বদলে গিয়েছিল।”ছবি: সংগৃহীত
3
6
রচিত পড়াশোনা করে ওয়াডালার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুলে (সিনিয়র কেজি)। তার বাবা উমেশ মধুসূদন পাঞ্চাল—পেশায় ব্যবসায়ী, বাড়ি পারেলে—নিজেও একসময় বডিবিল্ডিংয়ে রুপো জয় করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৯ মার্চ ‘মুম্বই শ্রী’ প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল উমেশের।
কিন্তু তার দু’দিন আগে জীবন বদলে যায়। আন্দেরির অফিস থেকে বাসাইয়ে ক্লায়েন্টের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর চোট পান তিনি। বাঁ পায়ের টিবিয়া ভেঙে যায়। মার্চ ও সেপ্টেম্বর—দু’দফা অস্ত্রোপচারের পর প্রায় আট মাস শয্যাশায়ী থাকতে হয়। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথ পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হন উমেশ। এই কঠিন সময়েই রচিত যেন বাবার স্বপ্নকে নিজের করে নেয়।ছবি: সংগৃহীত
4
6
রচিত প্রতিদিন বাবার সঙ্গে জিমে যায়। তার প্রশিক্ষক বিষাল পরব—যিনি একসময় উমেশকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ছোট্ট বয়সেই রচিতের রুটিন অত্যন্ত নিয়মিত। জিমের পাশাপাশি সে সাইক্লিং ও দৌড়েও অংশ নেয়। শরীরচর্চার পাশাপাশি ফিটনেসের সামগ্রিক বিকাশে জোর দেওয়া হচ্ছে।ছবি: সংগৃহীত
5
6
খাদ্যাভ্যাসেও শৃঙ্খলা: রচিতের খাবার পুরোপুরি বাড়িতে তৈরি। তার ডায়েটে নিয়মিত থাকে স্যালাড—এটাই তার প্রিয়। জাঙ্ক ফুড সে একেবারেই পছন্দ করে না। চিকেন ও ডিম তার খুব প্রিয়। বাবা উমেশ জানান, “আমরা কখনও ওর উপর চাপ দিই না। ও নিজে থেকেই অনুপ্রাণিত। ওর শৃঙ্খলা দেখে আমরাও অবাক হই।”ছবি: সংগৃহীত
6
6
মাত্র ছয় বছরের এক শিশুর পক্ষে এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিছক কৌতূহলের বিষয় নয়—এ এক আবেগের গল্প, লড়াইয়ের গল্প। যেখানে দুর্ঘটনায় থমকে যাওয়া বাবার স্বপ্ন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে সন্তানের সাহসে। জুনিয়র মুম্বই শ্রী ২০২৬-এ হয়তো রচিত ট্রফি জিতুক বা না জিতুক—সে ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়। আর উমেশ পাঞ্চালের কাছে, তার ছেলেই আজ সবচেয়ে বড় চ্যাম্পিয়ন।ছবি: সংগৃহীত