প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে পেট্রোল বা ডিজেল পাম্পে গিয়ে গাড়িতে জ্বালানি ভরা একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কিন্তু পাম্পে পৌঁছানোর পরপরই সেখানকার কর্মীরা প্রথম যে নির্দেশটি দেন, তা হল—"দয়া করে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করুন।"
2
9
অনেকেই এই নির্দেশটি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেন, আবার অনেকে তাড়াহুড়োয় ইঞ্জিন চালু রেখেই জ্বালানি ভরতে চান। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ি বা বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ করা বাধ্যতামূলক?
3
9
পেট্রোল পাম্প মূলত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। যেকোনও ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পাম্পেই কিছু নির্দিষ্ট সুরক্ষাবিধি মেনে চলা হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গাড়ি রিফুয়েলিংয়ের সময় ইঞ্জিন বন্ধ রাখা।
4
9
অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা: পেট্রোল বা গ্যাসোলাইন অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। গাড়ি চলার সময় তার ইঞ্জিন এবং এক্সহস্ট সিস্টেম বা সাইলেন্সার পাইপ প্রচুর উত্তাপ তৈরি করে। রিফুয়েলিংয়ের সময় জ্বালানি থেকে বাষ্প বা 'গ্যাস পেপার' বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। চালু ইঞ্জিনের উত্তাপ বা স্পার্কের সংস্পর্শে এই বাষ্প এলেই নিমেষে আগুন ধরে যেতে পারে, যা থেকে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটাও অসম্ভব নয়।
5
9
স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি বা স্থির বিদ্যুৎ: চলন্ত গাড়ি বা বাইক থেকে এক ধরণের স্থির বিদ্যুৎ বা স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি তৈরি হয়। রিফুয়েলিংয়ের সময় এই স্থির বিদ্যুৎ থেকে সামান্যতম স্পার্ক বা স্ফুলিঙ্গ তৈরি হলেও তা বাতাসের পেট্রোল বাষ্পে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
6
9
গাড়ির ফুয়েল সিস্টেমের ক্ষতি: ইঞ্জিন চালু অবস্থায় জ্বালানি ভরলে গাড়ির সেন্সর সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ফুয়েল পাম্পের স্বাভাবিক পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে ফুয়েল ট্যাঙ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া কিংবা জ্বালানি উপচে পড়ে বড় বিপত্তির ঝুঁকি থেকে যায়।
7
9
ভারতের পেট্রোল পাম্পের সুরক্ষাবিধি অনুযায়ী, জ্বালানি নেওয়ার সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম অমান্য করলে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করতে পারেন পাম্প কর্মীরা, এমনকি জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
8
9
পেট্রোল পাম্পে সুরক্ষার জন্য যা মনে রাখা জরুরি রিফুয়েলিং চলার সময় গাড়ির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।
পাম্প চত্বরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্ক কখনো উপচে পড়ার মতো অতিরিক্ত ভরবেন না।
9
9
রিফুয়েলিংয়ের সময় যাত্রী ও চালক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন। একটু অসাবধানতা বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তাই নিরাপত্তার খাতিরে পেট্রোল পাম্পের এই মৌলিক নিয়মটি সর্বদা মেনে চলা উচিত।