অষ্টম কেন্দ্রীয় পে কমিশনের 'টার্মস অফ রেফারেন্স' বা কাজের পরিধি সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় নয় মাস পার হতে চলল। মনে করা হচ্ছে, কমিশন আরও প্রায় নয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে।
2
10
এই মধ্যবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও পেনশনভোগীদের যৌথ মঞ্চের স্মারকলিপির মাধ্যমে অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কর্মচারীদের মূল প্রত্যাশাগুলি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
3
10
অষ্টম পে কমিশন কর্মচারীদের এসব দাবি কতটা পূরণ করবে তা সময় বলবে, তবে স্বাধীনতার পর থেকে অতীতের বিভিন্ন পে কমিশনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেতন ও ভাতা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়ে কর্মচারীদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
4
10
১৯৪৭ সালের পর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দশকে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ৩২৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
5
10
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ স্কেলের বেতন বেড়েছে প্রায় ১২৫ গুণ। বর্তমানে কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন, যার নির্ধারিত মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।
6
10
স্বাধীনতার পর থেকে দেশে মোট সাতটি পে কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রথমটি গঠিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের মে মাসে এবং সাম্প্রতিকতম সপ্তম পে কমিশন সুপারিশ জমা দিয়েছিল ২০১৪-১৫ সালে। অতীতের সুপারিশগুলির দিকে তাকালে তিনটি স্পষ্ট ধারা চোখে পড়ে।
7
10
স্কেলের সংখ্যা ও বেতনের বৈষম্য হ্রাস: প্রতিটি পে কমিশনই জটিল বেতন কাঠামোকে সহজ করার পাশাপাশি সবচেয়ে উচ্চপদস্থ আমলা এবং সর্বনিম্ন স্তরের কর্মীর উপার্জনের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, তৃতীয় পে কমিশন ৫০০টি পৃথক পে স্কেল কমিয়ে মাত্র ৮০টিতে নামিয়ে এনেছিল। ষষ্ঠ পে কমিশন ৩৫টি স্কেল কমিয়ে ১৯টিতে আনে।
8
10
ষষ্ঠ পে কমিশনেই সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি: প্রতিটি কমিশনই বেতন বাড়ালেও, সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গিয়েছিল ষষ্ঠ পে কমিশনে। সপ্তম পে কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ষষ্ঠ পে কমিশনের অধীনে কর্মচারীদের 'রিয়েল পে' বা প্রকৃত বেতন বেড়েছিল ৫৪ শতাংশ, যা এযাবৎ গঠিত সব কমিশনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
9
10
বেতন কাঠামোর আমূল সংস্কার: চতুর্থ পে কমিশন পর্যন্ত অধিকাংশ কর্মচারী নির্দিষ্ট পে স্কেলেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এরপর ষষ্ঠ পে কমিশন চালু করে 'রানিং পে ব্যান্ড' এবং 'গ্রেড পে' ব্যবস্থা। পরবর্তীতে সপ্তম পে কমিশন এই ব্যান্ড ও গ্রেড পে ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে চালু করে নতুন 'পে ম্যাট্রিক্স' । ফলে কোনও কর্মীর মর্যাদা আর গ্রেড পে দিয়ে নয়, পে ম্যাট্রিক্সে তাঁর 'লেভেল' দিয়ে নির্ধারিত হতে শুরু করে।
10
10
ঐতিহাসিক এই ধারা বজায় থাকলে, অষ্টম পে কমিশন পে ম্যাট্রিক্সকে আরও সরলীকরণ করবে এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ—উভয় স্কেলেই বড় অঙ্কের বৃদ্ধির সুপারিশ করবে বলে আশা করা যায়। তবে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ্যে আসার পরেই আসল চিত্র স্পষ্ট হবে।