পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ঘিরে জোরালো গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সেখানকার প্রধান শেয়ার সূচক কেএসই ১০০ ইনডেক্স হঠাৎ করেই তীব্র পতনের মুখে পড়ে।
2
9
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং যুদ্ধের আশঙ্কাই এই আকস্মিক পতনের প্রধান কারণ।
3
9
সপ্তাহের লেনদেনের শুরুতেই বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। ব্যাংকিং, জ্বালানি, সিমেন্ট ও টেলিযোগাযোগ—প্রায় সব খাতেই শেয়ারের দাম কমতে দেখা যায়। বিশেষ করে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপকভাবে বিক্রি হওয়ায় সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও তীব্র হয়। দিনের এক পর্যায়ে সূচক কয়েকশো পয়েন্ট পর্যন্ত নিচে নেমে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
4
9
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, সীমান্তে গোলাগুলি ও সামরিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রির পথে হাঁটেন। ফলে বাজারে আতঙ্ক শুরু হয়।
5
9
অর্থনীতিবিদদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি এমনিতেই মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যদি আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমে যেতে পারে।
6
9
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা সাধারণত রাজনৈতিক ও সামরিক অনিশ্চয়তার সময় বাজার থেকে দ্রুত মূলধন প্রত্যাহার করে থাকেন। ফলে মুদ্রাবাজারেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
7
9
বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তারা এটাও বলছেন, অনেক সময় গুজবভিত্তিক আতঙ্ক সাময়িক হয় এবং সরকার বা সামরিক বাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান বাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
8
9
অন্যদিকে, কিছু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী এই পতনকে সম্ভাব্য কেনার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ না নেয়, তবে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে বড় ওঠানামা দেখা গেলেও পরে তা স্থিতিশীল হয়েছে।
9
9
সার্বিকভাবে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। এখন বাজারের দৃষ্টি থাকবে সীমান্ত পরিস্থিতি, সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের গতিপথ।